ভারতের কেরালায় ভারী বৃষ্টির জেরে হড়পা বান, ভূমিধস ও কাদাধসে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মালাপ্পুরম জেলার নিলাম্বুরে কোট্টাপুঝা নদীতে হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ার ঘটনায়। একই সময়ে কোট্টায়াম ও ইদুক্কি জেলাতেও ভূমিধস ও মাটিধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মালাপ্পুরমের নিলাম্বুরের টিকে কলোনি এলাকার কোট্টাপুঝা নদীতে হঠাৎ পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। ওই সময় নদী ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্থান করছিলেন।
প্রাথমিকভাবে কয়েকজন পানির স্রোতে ভেসে গেলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতায় অনেকে রক্ষা পান। পরে নদী থেকে একে একে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সোমবার সকালের মধ্যে এই ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ এক নারীকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে আনাস মাঙ্গাদান, মুহাম্মদকুট্টি, রাহিম, সাজ্জাদ ও করুপ্পাথ রফিক রয়েছেন বলে দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে। তাদের বয়স ২৩ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে।
স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে তখন বৃষ্টি না থাকলেও উজানের বনাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। আকস্মিক এই পানির ঢলই বিপদের প্রধান কারণ বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে।
কোট্টায়াম জেলার টিকয় এলাকার ভেলাথুসেরিতে ভূমিধসের ঘটনায় তামিলনাড়ুর ৩৫ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ভ্যাগামন থেকে বন্ধুর সঙ্গে স্কুটারে ফিরছিলেন। এ সময় পাহাড়ের মাটি সড়কের ওপর ধসে পড়ে তাকে চাপা দেয়। সঙ্গে থাকা নারী আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ছাড়া কোট্টায়ামের পুঞ্জার এলাকায় মাটি ধসে একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা যান বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইদুক্কি জেলার কোট্টাকাম্বুরে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে একটি অস্থায়ী ঘরে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজনের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এতে দুজন নিহত এবং একজন আহত হন। আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
কেরালায় আরও কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (IMD)। পরিস্থিতির অবনতির কারণে কোট্টায়াম ও ইদুক্কি জেলায় সতর্কতা হলুদ থেকে কমলা করা হয়েছে। কমলা সতর্কতার অর্থ ২৪ ঘণ্টায় ১১ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত খুব ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন কর্মকর্তাদের প্রতি ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত ও দুর্যোগ পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মালাপ্পুরমের নিলাম্বুর-আমরামবালাম এলাকায় বিশেষ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
নিলাম্বুরে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে পুলিশ, ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছেন। প্রবল স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে ঝুঁকি রয়েছে।
আরও পড়ুন:







