জাপানের পূর্বাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী টাইফুন ‘দুজুয়ান’-এর প্রভাবে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো বাতাস ও উঁচু ঢেউয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে টোকিওসহ কানতো অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা, নদীর পানি বৃদ্ধি এবং ভূমিধসের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা—জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (JMA)।
সোমবার টাইফুনটি জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিকে এগিয়ে আসার সময় এর প্রভাবে ইজু দ্বীপপুঞ্জ ও পূর্ব জাপানের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। ইজু ওশিমা দ্বীপে ২৪ ঘণ্টায় ৬০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ইজু দ্বীপপুঞ্জের ওশিমা এলাকায় সর্বোচ্চ মাত্রার ভূমিধস সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং প্রশাসনের দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলেছে।
চিবা প্রিফেকচারসহ কানতো অঞ্চলের কয়েকটি এলাকাতেও বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কিছু স্থানে রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়া, নদীর পানি উপচে পড়া এবং ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।
JMA জানিয়েছে, টাইফুনের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কানতো ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাত আরও বাড়তে পারে। কিছু এলাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, সরু এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি হলে ‘লিনিয়ার রেইনব্যান্ড’ তৈরি হয়ে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে পারে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় ইজু দ্বীপপুঞ্জ ও কানতো অঞ্চলের কিছু অংশে ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত এবং তোহোকু অঞ্চলে ১৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
টাইফুনের প্রভাবে জাপানের পরিবহন ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। সোমবার শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। Japan Airlines ও All Nippon Airways-এর বহু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিলের পাশাপাশি টোকিও ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি রেলপথে পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।
কিছু মহাসড়ক ও স্থানীয় সড়কও ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ঢেউয়ের কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহেও বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে।
জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কানতোসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক বাসিন্দাকে সরিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এসব নির্দেশনা সব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক না হলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
JMA বাসিন্দাদের বিশেষ করে নদী, নিচু এলাকা, পাহাড়ের ঢাল ও ভূমিধসপ্রবণ স্থান থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বন্যার সময় ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ও পানিতে ডুবে থাকা সড়কে না যাওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, টাইফুনের কেন্দ্র উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গেলেও ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি সঙ্গে সঙ্গে শেষ হবে না। বৃষ্টিপাত থেমে যাওয়ার পরও পাহাড়ি এলাকায় মাটির স্থিতিশীলতা কমে থাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা থাকতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







