News Ticker
221.png

যন্ত্র বিকল হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে শত শত ফ্লাইট বাতিল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪৬

শেয়ার

শেয়ার

যন্ত্র বিকল হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে শত শত ফ্লাইট বাতিল
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের কারিগরি বিপর্যয়ের কারণে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শত শত ফ্লাইট বাতিল এবং হাজার হাজার ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ফিলাডেলফিয়া ও বোস্টনের একাধিক ব্যস্ত বিমানবন্দরে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। 

ঘটনার সূত্রপাত হয় ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (FAA) একটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল কেন্দ্রে। সেখানে প্রধান যোগাযোগ সার্কিটে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর নিয়ন্ত্রকেরা বিকল্প ব্যবস্থায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই ব্যাকআপ ব্যবস্থার ফাইবার-অপটিক লাইনও নিউ জার্সিতে নির্মাণকাজের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। ফলে বিমান নিয়ন্ত্রণকারীদের যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং ৬ হাজারের বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। 

নিউয়ার্ক বিমানবন্দরে পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে গুরুতর। কয়েক ঘণ্টা সেখানে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের অবতরণ কার্যত বন্ধ ছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, নিউয়ার্কে ৬০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়। 

এ ছাড়া নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK) ও লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর এবং নিউ জার্সির টেটারবোরো বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বোস্টন লোগান বিমানবন্দরও সাময়িকভাবে এই বিপর্যয়ের প্রভাবের মধ্যে পড়ে।

FAA প্রশাসক ব্রায়ান বেডফোর্ড জানান, ফিলাডেলফিয়ার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল কেন্দ্রে প্রথমে একটি প্রধান যোগাযোগ সার্কিট বিকল হয়। পরে ব্যাকআপ ব্যবস্থায় যাওয়ার সময় কর্মকর্তারা দেখতে পান, নিউ জার্সির একটি ফাইবার-অপটিক লাইনও কাটা পড়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ জার্সিতে নির্মাণকাজের সময় ওই টেলিযোগাযোগ লাইন দুর্ঘটনাক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, একটি নির্মাণকাজের সময় ফাইবার লাইন কেটে যাওয়ার কারণেই টেলিযোগাযোগ বিপর্যয় তৈরি হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্যে ঘটনার দায় নিয়ে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ডাফি ঘটনাটিকে Amtrak-এর নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত করলেও Amtrak জানিয়েছে, ঘটনাটি নিউ জার্সি ট্রানজিটের (NJ Transit) এলাকায় এবং তাদের একজন ঠিকাদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 

যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যার কারণে FAA একের পর এক বিমানবন্দরে ‘গ্রাউন্ড স্টপ’ জারি করে। এর অর্থ হলো নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে নতুন করে কোনো ফ্লাইটের আগমন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা।

নিউয়ার্কে স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের পর পর্যন্ত কোনো বাণিজ্যিক ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি বলে ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যের বরাতে AP জানিয়েছে। ফলে অনেক বিমানকে অন্য বিমানবন্দরে পাঠানো হয়, আবার অনেক ফ্লাইটকে যাত্রার আগেই বিমানবন্দরে অপেক্ষায় রাখা হয়। 

সোমবার সন্ধ্যার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ লাইন মেরামত করা হয়। এরপর নিউইয়র্ক ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে ধীরে ধীরে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, যোগাযোগ লাইন মেরামতের পর স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরতে শুরু করেছে। তবে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হওয়ায় পুরো ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও সময় লাগবে।

FAA এবং বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজ নিজ ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। কিছু এয়ারলাইন ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের ফ্লাইট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধাও দিয়েছে। 

এই বিমান চলাচল বিপর্যয় এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন প্রায় ১৩০ জন বিশ্বনেতা ও বহু মন্ত্রী জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসছিলেন। ফলে বিমান চলাচলে এই আকস্মিক সংকট আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্যও বাড়তি ভোগান্তি তৈরি করে। 

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer