News Ticker
221.png

হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদিকে সামরিক সহায়তার ঘোষণা যুক্তরাজ্যের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪৯

শেয়ার

শেয়ার

হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদিকে সামরিক সহায়তার ঘোষণা যুক্তরাজ্যের
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সীমিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সহায়তার অংশ হিসেবে সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করবে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ)।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের অনুরোধের পর প্রতিরক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে এই সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান। 

ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি আরএএফ ভয়েজার (RAF Voyager) ট্যাংকার বিমান মোতায়েন করা হতে পারে। বিমানটি সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করবে, যাতে তারা নিজেদের ভূখণ্ডকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষায় দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করতে পারে।

যুক্তরাজ্যের এই সহায়তাকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ সৌদি যুদ্ধবিমানকে হুতিদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করার পরিবর্তে সৌদি ভূখণ্ড রক্ষার কাজে জ্বালানি সহায়তা দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য। 

বার্নহাম জানান, এই ব্যবস্থা সময়-সীমাবদ্ধ এবং পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। প্রাথমিকভাবে সহায়তাটি কয়েক সপ্তাহের জন্য কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে সৌদি রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে চালানো একটি হামলাও ছিল, যা সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের হামলায় বেসামরিক মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর ও আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেসামরিক বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক বক্তব্যে যুক্তরাজ্য জানায়, হুতিদের হামলায় আরও ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

হুতিদের তৎপরতা শুধু সৌদি ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।

বাব আল-মান্দেব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। যুক্তরাজ্য বলছে, হুতিদের সামরিক তৎপরতা এই নৌপথের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ঝুঁকি তৈরি করছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর হামলা এবং সম্ভাব্য আরও অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের পাশাপাশি বৃহত্তর অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ খোলা রাখা প্রয়োজন।

হুতিদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছে ব্রিটিশ সরকার। ১০ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর (FCDO) জানায়, সৌদি আরবের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেবের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। 

একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য বলেছে, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার রয়েছে এবং তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।

ব্রিটিশ সরকারের ঘোষিত বর্তমান পদক্ষেপের মূল বিষয় হলো সৌদি প্রতিরক্ষামূলক বিমান অভিযানে সহায়তা করা। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য হুতিদের অবস্থানে সরাসরি বিমান হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়নি। বরং সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

সূত্র: আল জাজিরা

ChannelNRB Footer