প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো বাতাস, বন্যা ও ভূমিধসে জাপানে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে টাইফুন দুজুয়ান। ঝড়ের প্রভাবে দেশটির পূর্বাঞ্চলে অন্তত ৪ জন নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন। ভূমিধসের পর আরও ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। একই সঙ্গে চিবা অঞ্চলে ৪৫ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-এর তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
দুজুয়ানের প্রভাবে টোকিওর আশপাশের কানাগাওয়া ও চিবা প্রিফেকচারে ব্যাপক ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। কানাগাওয়ার ইয়োকোসুকা শহরে ভূমিধসের মাটি একটি বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়লে ষাটোর্ধ্ব এক নারী নিহত হন। চিবা প্রিফেকচারেও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের বয়স ৫০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে এনএইচকে।
কানাগাওয়ার মিউরা শহরে ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়িতে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। চিবা ও কানাগাওয়ার বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানেও কাজ করছেন পুলিশ ও দমকলকর্মীরা।
ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার চিবা অঞ্চলে ৪৫ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন ছিল। একই সময়ে ৪৬০টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
দুজুয়ানের প্রভাবে টোকিও ও আশপাশের এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। টোকিওর দক্ষিণে অবস্থিত ওশিমা দ্বীপে ৪৮ ঘণ্টায় ৮৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই পরিমাণ সেপ্টেম্বর মাসের ওই এলাকার গড় মোট বৃষ্টিপাতের দ্বিগুণেরও বেশি।
এদিকে টোকিওর এদোগাওয়া ওয়ার্ডে ২৪ ঘণ্টায় ২৮২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ওই এলাকার জন্য নতুন রেকর্ড।
ঝড়ের চরম পর্যায়ে টোকিও ও আশপাশের এলাকায় ১৬ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এসব নির্দেশনা বাধ্যতামূলক ছিল না। ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়ায় বন্যা এবং ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
দুজুয়ানের কারণে বিমান ও রেল যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। জাপান এয়ারলাইনস ১৩৫টি এবং অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ ১৪০টি ফ্লাইট বাতিল করে। টোকিওতে বিশ্বের বড় ভিডিও গেম বাণিজ্য মেলাগুলোর একটি নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার সকালে দুজুয়ান জাপানের উপকূল ছেড়ে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে সরে যায়। এর ফলে অনেক এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের সতর্কতা কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টিতে মাটি এখনও নরম থাকায় ভূমিধস এবং নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
জাপানে গ্রীষ্মের শেষ ও শরতের শুরুতে শক্তিশালী টাইফুন প্রায়ই আঘাত হানে। এবারের দুজুয়ানেও প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







