News Ticker
221.png

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিএনএনসহ ৩ গণমাধ্যমের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩০

শেয়ার

শেয়ার

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিএনএনসহ ৩ গণমাধ্যমের মামলা
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির তিনটি গণমাধ্যম—সিএনএন (CNN), এমএস নাও (MS NOW) ও পলিটিকো (Politico)। হোয়াইট হাউসে এসব প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়। 

গণমাধ্যম তিনটির অভিযোগ, তাদের প্রকাশিত সংবাদ ও প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর প্রতি প্রশাসনের আপত্তির কারণে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মামলায় সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট তিন সাংবাদিককেও বাদী করা হয়েছে। গণমাধ্যমগুলো আদালতের কাছে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর বন্ধ করার জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা Temporary Restraining Order (TRO) চেয়েছে। মামলাটির বিষয়ে বুধবার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। 

মামলাটির মূল আইনি প্রশ্ন হলো—সরকার কোনো গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ বা দৃষ্টিভঙ্গি পছন্দ না করার কারণে সেই প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের সরকারি প্রেস সুবিধা থেকে বাদ দিতে পারে কি না। গণমাধ্যমগুলোর অভিযোগ, তাদের ক্ষেত্রে এমনটাই করা হয়েছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হবে। তিনি এসব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে ‘ফেক নিউজ’ বলে অভিহিত করেন এবং অভিযোগ করেন, তারা তার প্রশাসন সম্পর্কে ভুল বা মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে আরও কিছু সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।

এর দুই দিন পর, ১৯ সেপ্টেম্বর, তিন প্রতিষ্ঠানের হোয়াইট হাউস প্রতিবেদকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। সিএনএনের প্রতিবেদক বেটসি ক্লেইন এবং এমএস নাওয়ের প্রতিবেদক আকায়লা গার্ডনার জানান, তাদের প্রেস ব্যাজ নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। পরে পলিটিকোর প্রতিবেদক চেয়েন হাসলেটকেও প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং তার ব্যাজ নিয়ে নেওয়া হয়।

মামলা দায়েরের পরও ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, তার প্রশাসন মুক্ত সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা করছে না; বরং তিনি যেসব সংবাদমাধ্যমকে ‘ফেক নিউজ’ মনে করেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ট্রাম্প এসব সংবাদমাধ্যমকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলেও উল্লেখ করেছেন।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার একটি সুবিধা, সাংবিধানিক অধিকার নয়। প্রশাসনের বক্তব্য, প্রথম সংশোধনী সংবাদ প্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত করে, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট সাংবাদিককে হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্যাজ, ব্রিফিং রুমের আসন বা প্রেস পুলে থাকার নিশ্চয়তা দেয় না।

অন্যদিকে তিন গণমাধ্যমের যৌথ বক্তব্য, কোনো ধরনের নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র বাতিল করা হয়েছে এবং এর পেছনে মূল কারণ ছিল তাদের প্রকাশিত সংবাদ।

তাদের দাবি, সরকারের কোনো সংবাদ প্রতিবেদন অপছন্দ হলে সেটির জবাব দেওয়ার সুযোগ সরকারের রয়েছে; কিন্তু প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর কারণে সাংবাদিকদের সরকারি কার্যক্রম কাভার করা থেকে বাদ দেওয়া হলে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। 

ঘটনাটির প্রভাব পড়েছে হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন প্রেস পুলে। প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি কাভারের জন্য সিএনএন, ফক্স নিউজ, এবিসি, সিবিএস ও এনবিসি যৌথভাবে পালাক্রমে ভিডিও কাভারেজের দায়িত্ব পালন করে থাকে।

সিএনএনকে নির্ধারিত প্রেস পুলের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার পর অন্য নেটওয়ার্কগুলোও প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত পুল কাভারেজ সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে প্রেসিডেন্টের নিউইয়র্ক ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকেন্দ্রিক কর্মসূচির টেলিভিশন কাভারেজে প্রভাব পড়ে।

মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রেস স্বাধীনতা ও সরকারি প্রেস-অ্যাক্সেস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। গণমাধ্যমগুলো বলছে, সরকারের কোনো সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করে সংবাদ প্রকাশ করার কারণে কোনো সংবাদমাধ্যমকে বাছাই করে সরকারি কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হলে সেটি প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, সংবাদমাধ্যমের প্রকাশনার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রয়েছে এবং হোয়াইট হাউসের নির্দিষ্ট প্রবেশাধিকারকে তারা প্রশাসনিক সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে আদালতের সামনে এখন মূল প্রশ্ন হবে—এই নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আইন ও সংবিধানের সীমার মধ্যে পড়ে কি না।

ChannelNRB Footer