News Ticker
221.png

ঢাকা থেকে বিপুল মাদক নিয়ে কুয়েত বিমানবন্দরে ধরা বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৪৪

শেয়ার

শেয়ার

ঢাকা থেকে বিপুল মাদক নিয়ে কুয়েত বিমানবন্দরে ধরা বাংলাদেশি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে যাওয়ার পর বিপুল পরিমাণ মাদকসহ এক বাংলাদেশি যাত্রীকে আটক করেছে কুয়েতের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৫ (T5)-এ তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে গাঁজা, শাবু (মেথঅ্যামফিটামিন) ও বিপুলসংখ্যক মাদকজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। 

কুয়েতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে আসা ওই যাত্রীর ব্যাগেজে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৪ কেজি ৭৫০ গ্রাম মারিজুয়ানা বা গাঁজা, ৩১৯ দশমিক ৩ গ্রাম শাবু এবং ৬ হাজার ২১১টি ট্যাবলেট পাওয়া যায়। কুয়েত কাস্টমসের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ট্যাবলেটকে দেশটির আইনে মাদক ও সাইকোট্রপিক পদার্থের তালিকাভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

কুয়েত কাস্টমস জানিয়েছে, বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৫-এ কর্মকর্তারা ওই যাত্রীর লাগেজে তল্লাশি চালান। তল্লাশির সময় পৃথক কয়েকটি ব্যাগ ও প্যাকেট থেকে মাদকগুলো উদ্ধার করা হয়।

কুয়েতি সংবাদমাধ্যম আল জারিদা জানিয়েছে, তিনটি ব্যাগে মোট ৪ দশমিক ৭ কেজি মারিজুয়ানা, ছয়টি ব্যাগে ৩১৯ দশমিক ৩ গ্রাম শাবু এবং ৩১টি প্যাকেটে ৬ হাজার ২১১টি ট্যাবলেট পাওয়া যায়। 

কুয়েতের আরেক সংবাদমাধ্যম আল রাই-এর প্রতিবেদনেও প্রায় একই পরিমাণ মাদক উদ্ধারের তথ্য দেওয়া হয়েছে। 

কুয়েত কাস্টমসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দ করা মাদকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় জব্দ তালিকা ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এরপর আটক বাংলাদেশি যাত্রী ও উদ্ধার করা মাদক জেনারেল ডিপার্টমেন্ট ফর ড্রাগস অ্যান্ড অ্যালকোহল কন্ট্রোল-এর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। 

তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তির নাম, বয়স বা বাংলাদেশের কোন এলাকার বাসিন্দা—এসব বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া একজন যাত্রীর ব্যাগে এত বিপুল পরিমাণ মাদক পাওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, চালানটি কীভাবে বাংলাদেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও স্ক্যানিং ব্যবস্থা পার হয়ে গেল।

বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

কুয়েতে মাদক পাচার ও মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হয়। দেশটির বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যাত্রী ও লাগেজে তল্লাশি চালায় এবং মাদক পাচার ঠেকাতে আধুনিক স্ক্যানিং ও নজরদারি ব্যবস্থা ব্যবহার করে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে যাত্রী ও কার্গো উভয় ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করে।

এর আগে চলতি সেপ্টেম্বরেও কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাদক পাচারের আরও কয়েকটি ঘটনা ধরা পড়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর টার্মিনাল-৪-এ ইউরোপ থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় ৯ দশমিক ৬ কেজি ‘কেমিক্যাল’ মাদক উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল কুয়েত কাস্টমস।

ChannelNRB Footer