News Ticker
221.png

ইয়েমেনে চলছে তীব্র লড়াই, দুদিনে নিহত ১৫০ জনের বেশি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৪

শেয়ার

শেয়ার

ইয়েমেনে চলছে তীব্র লড়াই, দুদিনে নিহত ১৫০ জনের বেশি
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনে হুথি যোদ্ধা ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে তীব্র লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই দিনে সংঘর্ষ, সৌদি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে ১৫৪ জন নিহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষের সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এএফপি।

হুথি সামরিক সূত্রের দাবি, তাইজ, আল-জাওফ, মারিব ও সাদা প্রদেশে সৌদি বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও স্থলসংঘর্ষে তাদের পক্ষে ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, তাদের বাহিনীর ৩৬ সদস্য নিহত হয়েছেন।

সাম্প্রতিক লড়াই ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। হুথিরা চলতি মাসে লোহিত সাগরের উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেওয়ার পর এখন কৌশলগত পাহাড়ি অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

তাইজ ও লাহিজ প্রদেশের কাহবুব পাহাড়কে ঘিরে সংঘর্ষ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অঞ্চলটি লোহিত সাগরের উপকূল ও দক্ষিণাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্যে যোগাযোগের দিক থেকে কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে।

জাতিসংঘের হিসাবে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের সংঘাতে ইয়েমেনে মোট নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭০০-তে পৌঁছেছে এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

লড়াই তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। আগামী তিন মাসে আরও প্রায় ১ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন বলে সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়েছে। 

ইয়েমেন থেকে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকার দেশগুলোতেও মানুষ পালাচ্ছেন। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নৌপথে জিবুতি ও সোমালিয়ার দিকে পাড়ি দিয়েছেন। সমুদ্রের পরিস্থিতি তুলনামূলক অনুকূল হলে আগামী মাসে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জাতিসংঘ বলছে, আগামী কয়েক মাসে জিবুতিতে ইয়েমেন থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষ পৌঁছাতে পারেন। একই সময়ে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে শিশুদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির ১৬ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই সপ্তাহে ১ লাখ ৪ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫৭ হাজারের বেশি শিশু।

এ সময় অন্তত নয় শিশু নিহত এবং ১২ শিশু আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘাতের কারণে ইউনিসেফ-সমর্থিত ২৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা ব্যাহত হয়েছে এবং ২৪৩টি স্কুল বন্ধ বা শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে। 

ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের মানবিক সংকটের সঙ্গে নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতি যোগ হওয়ায় খাদ্যনিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে রয়েছেন। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করে বলছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

ইয়েমেনের নতুন করে তীব্র হওয়া সংঘাত লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশ পরিচালিত হওয়ায় ইয়েমেনের সংঘাতের প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও পড়তে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা এবং সংঘাতকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

ChannelNRB Footer