News Ticker
221.png

বুলডোজার চালাতে গিয়ে মিলল ৯ কেজির বিশাল সোনার পিণ্ড

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৪

শেয়ার

শেয়ার

বুলডোজার চালাতে গিয়ে মিলল ৯ কেজির বিশাল সোনার পিণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

বুলডোজার দিয়ে মাটি সরানোর সময় প্রায় ৯ কেজি ওজনের বিশাল এক সোনার পিণ্ড পেয়েছিলেন এক খনি শ্রমিক। অবিশ্বাস্য এই ঘটনাটি ঘটেছিল যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায়, ১৯৯৮ সালে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি আবার আলোচনায় আসার পর নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সময় আলাস্কার রুবি শহরের কাছে সুইফট ক্রিক এলাকায় খনির কাজে নিয়োজিত ছিলেন শ্রমিক ব্যারি ক্লে। বুলডোজার দিয়ে মাটি সরানোর একপর্যায়ে সরানো মাটির স্তূপে একটি ভারী বস্তু তার নজরে আসে।

প্রথমে সেটিকে সাধারণ কোনো পাথর মনে করেছিলেন ক্লে। কিন্তু কাছে গিয়ে পরীক্ষা ও পরিষ্কার করার পর তিনি বুঝতে পারেন, সেটি আসলে পাথর নয়—সোনা ও কোয়ার্টজের তৈরি একটি বিশাল প্রাকৃতিক পিণ্ড। 

আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’ নামে পরিচিত ওই সোনার পিণ্ডটির ওজন ২৯৪ দশমিক ১০ ট্রয় আউন্স, যা প্রায় ৯ দশমিক ১৪ কেজি। এর আকার প্রায় একটি শিশুর মাথার সমান বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

আবিষ্কারের পর আলাস্কার কর্মকর্তারা পিণ্ডটিকে অঙ্গরাজ্যে পাওয়া সবচেয়ে বড় অক্ষত প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এর নামকরণ করা হয় ঐতিহাসিক ক্লনডাইক গোল্ড রাশের শতবর্ষ উপলক্ষে।

ব্যারি ক্লে আবিষ্কারের পরপরই সোনার পিণ্ডটি বিক্রি করেননি। দুই দশকেরও বেশি সময় এটি ব্যক্তিগত মালিকানায় ছিল।

পরে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হেরিটেজ অকশনস-এর নিলামে পিণ্ডটি তোলা হয়। শেষ পর্যন্ত একজন অনলাইন সংগ্রাহক এটি ৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে কিনে নেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় আকৃতির প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড অত্যন্ত বিরল। ফলে এর মূল্য শুধু এতে থাকা সোনার বাজারদরের ওপর নির্ভর করে না; ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সংগ্রহযোগ্যতার কারণেও এর দাম অনেক বেশি।

তৎকালীন হিসাবে, পশ্চিম গোলার্ধে পাওয়া সবচেয়ে বড় সোনার পিণ্ডগুলোর তালিকায় এটি ছিল দ্বিতীয়। এর চেয়ে বড় ‘বুট অব কর্টেজ’ নামে পরিচিত পিণ্ডটি ১৯৮৯ সালে মেক্সিকোতে পাওয়া যায়। 

খনিতে প্রতিদিনের মতো বুলডোজার চালিয়ে মাটি সরানোর কাজ করছিলেন ব্যারি ক্লে। সেই সাধারণ কর্মদিবসই পরিণত হয় জীবনের সবচেয়ে বড় আবিষ্কারে। মাটির স্তূপে পড়ে থাকা ভারী বস্তুটি যে কয়েক কেজি সোনার পিণ্ড, তা প্রথম দেখায় বোঝার উপায় ছিল না।

প্রায় তিন দশক আগে ঘটে যাওয়া সেই আবিষ্কার এখনো বিশ্বের অন্যতম আলোচিত সোনার পিণ্ড আবিষ্কারের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২১ সালের নিলামে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে বিক্রি হওয়ার পর এর গল্প আরও আলোচনায় আসে।

ChannelNRB Footer