News Ticker
221.png

ইরানের আকাশে অজ্ঞাত উড়ন্তযান, গভীর রহস্য

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:০৩

শেয়ার

শেয়ার

ইরানের আকাশে অজ্ঞাত উড়ন্তযান, গভীর রহস্য
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানের রাতের আকাশে রহস্যময় আলোর একটি উড়ন্ত বস্তু দেখা যাওয়ার দাবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর ধারণ করা বলে দাবি করা ভিডিওতে আকাশে বিভিন্ন রঙের আলো ছড়ানো একটি বস্তুকে স্থির অবস্থায় ভাসতে কিংবা ধীরে চলতে দেখা যায়। ভিডিওটি তেহরানের আজাদেগান এক্সপ্রেসওয়ে এলাকার কাছাকাছি ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। রয়টার্স কানেক্টে প্রকাশিত ভিডিও-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বস্তুটির আকার, উচ্চতা, দূরত্ব ও গতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ইরানি কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত বস্তুটির পরিচয় প্রকাশ্যে শনাক্ত করেনি। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে অন্ধকার আকাশের মধ্যে একাধিক উজ্জ্বল ও বহুরঙা আলো দেখা যায়। কোনো কোনো ফুটেজে আলোকে স্থির মনে হচ্ছে, আবার কোথাও সেটিকে ধীরে ধীরে স্থান পরিবর্তন করতে দেখা যাচ্ছে।

তবে ভিডিওতে নির্ভরযোগ্য কোনো রেফারেন্স পয়েন্ট নেই। ফলে বস্তুটি মাটি থেকে কত ওপরে ছিল, আসলে কত বড় ছিল কিংবা কত দ্রুত চলছিল—এসব নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

রয়টার্স কানেক্টে থাকা ভিডিওটি Spectee-এর মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। রয়টার্স কানেক্ট নিজেই জানিয়েছে, তারা ভিডিওটির উপাদান স্বাধীনভাবে যাচাই বা অনুমোদন করেনি। ফলে ভিডিওটি প্রচারিত হওয়া এবং ভিডিওতে করা সব দাবি সত্য হওয়া—দুটি বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। কেউ এটিকে ড্রোন, কেউ একাধিক ড্রোন, আবার কেউ বিমান বা আলোযুক্ত কোনো উড়ন্ত বস্তুর সঙ্গে তুলনা করছেন। এমনকি কিছু পোস্টে কথিত গোপন সামরিক উড়োজাহাজের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত এসব দাবির কোনোটি নির্ভরযোগ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি। কোনো রাডার তথ্য, সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা স্বীকৃত প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। 

এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য। UFO বা Unidentified Flying Object বলতে এমন কোনো আকাশীয় বস্তু বা ঘটনা বোঝায়, যার পরিচয় পর্যবেক্ষণের সময় নিশ্চিত করা যায়নি।

অর্থাৎ কোনো বস্তুকে ‘অজ্ঞাত’ বলা মানেই সেটি ভিনগ্রহের যান—এমন নয়। একইভাবে বর্তমান ভিডিওতেও ভিনগ্রহের কোনো যান দেখা গেছে—এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। 

সাম্প্রতিক ঘটনাটি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে কারণ এটি প্রায় ৫০ বছর আগে ঘটে যাওয়া তেহরানের বিখ্যাত ১৯৭৬ সালের আকাশীয় ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।

১৯৭৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তেহরানের শেমিরান এলাকার বাসিন্দারা আকাশে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল একটি বস্তু দেখার খবর দেন। পরে তৎকালীন ইম্পেরিয়াল ইরানিয়ান এয়ার ফোর্স দুটি F-4 Phantom যুদ্ধবিমানকে সেটি পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠায়। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে মার্কিন সরকারের নথিও প্রকাশ করা হয়। 

মার্কিন সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রথম যুদ্ধবিমানটি বস্তুটির কাছে যাওয়ার সময় যোগাযোগ ও কিছু যন্ত্রপাতিতে সমস্যার কথা জানিয়েছিল। দ্বিতীয় একটি F-4 পরে বস্তুটির দিকে যায় এবং রাডারে সেটিকে শনাক্ত করার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

ওই ঘটনার প্রতিবেদনে বিভিন্ন রঙের আলো—নীল, সবুজ, লাল ও কমলা—দেখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ১৯৭৬ সালের ঘটনাটির সঙ্গে ২০২৬ সালের বর্তমান ভিডিওর কোনো সরাসরি যোগসূত্রের প্রমাণ নেই।

ইরানের আকাশে সাম্প্রতিক এই ভিডিও এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন দেশটিকে ঘিরে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে। ফলে আকাশে অস্বাভাবিক আলো দেখা যাওয়ার বিষয়টি সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব ও জল্পনা তৈরি করেছে।

তবে বর্তমান ভিডিওতে দেখা বস্তুকে ইরানের চলমান সামরিক পরিস্থিতির কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করার মতো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর কেউ কেউ এটিকে উন্নত সামরিক ড্রোন, কেউ গোপন সামরিক বিমান এবং কেউ ‘UFO’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। কিছু প্রতিবেদনে LED-যুক্ত ঘুড়ি বা সাধারণ ড্রোনের সম্ভাবনার কথাও এসেছে।

কিন্তু এগুলো এখনো সম্ভাব্য ব্যাখ্যা মাত্র। পর্যাপ্ত তথ্য ছাড়া কোনো একটি ব্যাখ্যাকে সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। 

তেহরানের আকাশে দেখা অজ্ঞাত বস্তুটি কী—এ প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। ভিডিওতে অস্বাভাবিক আলো দেখা গেলেও শুধু সেই ফুটেজের ভিত্তিতে বস্তুটির প্রকৃতি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

মূল ভিডিওর মেটাডেটা, সুনির্দিষ্ট অবস্থান, রাডার তথ্য অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শনাক্তকরণ পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে। তার আগে এটিকে অজ্ঞাত আকাশীয় বস্তু হিসেবে বর্ণনা করাই সবচেয়ে তথ্যনির্ভর অবস্থান।

আর ১৯৭৬ সালের তেহরান ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ঘটনাটির সময়ের মিল থাকলেও, প্রায় অর্ধশতাব্দী আগের সেই ঘটনা বর্তমান বস্তুর পরিচয় সম্পর্কে কোনো প্রমাণ দেয় না। 

ChannelNRB Footer