তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় মানিসা প্রদেশের তুরগুতলু জেলায় একটি স্কুলের সামনে শটগান নিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৭টা ৫৯ মিনিটে ইনচি উজমেজ ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল আনাতোলিয়ান হাইস্কুলের কাছের একটি সড়কে গুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে পাঠায়।
তুরস্কের শিক্ষামন্ত্রী মুস্তাফা চিফতচির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত শটগানটি অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তার দাদা-দাদির বাড়ি থেকে নিয়েছিল।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্কুলের শিক্ষার্থী এবং শটগান হাতে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর সে পায়ে হেঁটে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে আটক করে।
অভিযুক্তের বয়স ১৫ বছর বলে তুরস্কের হাবেরতুর্ক জানিয়েছে। তবে বয়সের তথ্যটি সব সরকারি সূত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
হামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর মা, বাবা এবং অস্ত্রটির মালিক দাদাকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অস্ত্রটি কীভাবে ওই শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছাল এবং সেটি কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সন্তানকে দেখভাল ও তত্ত্বাবধানে পরিবারের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তে দুইজন প্রধান প্রসিকিউটরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হামলার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে ওই শিক্ষার্থী আগে স্কুলে সহপাঠীদের বুলিংয়ের শিকার হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে আহতের সংখ্যা কম জানানো হলেও পরে তা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়ায়। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে তিনজন নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসাধীন এবং তাদের অবস্থা গুরুতর। একজন আহত ব্যক্তি পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
ঘটনার পর স্কুল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা দ্রুত স্কুলে ছুটে যান। পুলিশের ব্যারিকেডের কারণে কিছু অভিভাবকের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের উত্তেজনাও তৈরি হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট স্কুলে দিনের বাকি সময়ের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহায়তায় মনোসামাজিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তুরস্কের জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটি তদন্তে তিনজন পরিদর্শকও পাঠিয়েছে।
চলতি বছর তুরস্কে স্কুলে গুলিবর্ষণের আরও দুটি ঘটনা ঘটেছে। এপ্রিলে দেশটির সানলিউরফা প্রদেশে এক সাবেক শিক্ষার্থীর গুলিতে ১৬ জন, বেশিরভাগই শিক্ষার্থী, আহত হন। পরদিন কাহরামানমারাশ প্রদেশের একটি স্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী দুটি শ্রেণিকক্ষে গুলি চালিয়ে আট শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষককে হত্যা করে এবং আরও ১৩ জনকে আহত করে।
এসব ঘটনার পর নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় তুরস্কের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছিল। এর মধ্যেই মানিসার তুরগুতলুর সর্বশেষ ঘটনাটি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে দেশটিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন:







