News Ticker
221.png

গ্রিনল্যান্ডে নতুন দুটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৯

আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৩

শেয়ার

শেয়ার

গ্রিনল্যান্ডে নতুন দুটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়াতে গ্রিনল্যান্ডে দুটি নতুন প্রতিরক্ষা স্থাপনা গড়ে তুলবে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তি ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের বিদ্যমান পিটুফিক স্পেস বেস আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি দক্ষিণের নারসারসুয়াক এবং পূর্বাঞ্চলের মেস্টারসভিগে নতুন ‘ডিফেন্স এরিয়া’ স্থাপন করতে পারবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও প্রতিরক্ষা এলাকা গড়ে তোলার সুযোগও রাখা হয়েছে। 

প্রস্তাবিত প্রথম স্থাপনাটি হবে দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নারসারসুয়াকে। দ্বিতীয়টি হবে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের মেস্টারসভিগে।

নারসারসুয়াকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান নামে একটি সামরিক ঘাঁটি ছিল। ১৯৫০-এর দশকে ঘাঁটিটি বন্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। নতুন চুক্তির মাধ্যমে ওই এলাকায় আবার মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ফিরতে যাচ্ছে। 

অন্যদিকে মেস্টারসভিগে বর্তমানে ডেনমার্কের বিশেষ বাহিনীর সিরিয়াস ডগ স্লেজ প্যাট্রোল ইউনিটের একটি সামরিক চৌকি রয়েছে। ফলে সেখানে মার্কিন স্থাপনা তৈরি হলে গ্রিনল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো বিস্তৃত হবে। 

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে প্রধান সক্রিয় সামরিক স্থাপনা হলো উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পিটুফিক স্পেস বেস। নতুন চুক্তিতে এই ঘাঁটির কার্যক্রম আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

পিটুফিক ঘাঁটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ নজরদারি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শীতল যুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা এবং ১০ হাজারের বেশি সেনা ছিল। বর্তমানে সেখানে মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ১৫০। 

গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা এবং চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত আগ্রহ বাড়ার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিকে নজরদারি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে।

ডেনমার্কের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থা আর্কটিক নিরাপত্তাকে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে না রেখে ন্যাটো কাঠামোর অধীনে আরও বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ করবে। 

নতুন সামরিক ব্যবস্থা গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করে দিচ্ছে না। গ্রিনল্যান্ড এখনো ডেনমার্কের রাজ্যের অধীন একটি স্বশাসিত অঞ্চল।

চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, চুক্তিটি ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সম্মান করে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনও চুক্তিটিকে নিরাপত্তা সহযোগিতার কাঠামো হিসেবে তুলে ধরেছেন। 

চুক্তিতে ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশকে গ্রিনল্যান্ডে নিজস্ব সামরিক স্থাপনা বা স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া বা চীনের মতো ন্যাটোর বাইরের শক্তির সামরিক উপস্থিতি ঠেকানোর লক্ষ্য রয়েছে।

চুক্তিটি নির্দিষ্ট মেয়াদে সীমাবদ্ধ নয়। এমনকি ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হলেও চুক্তির কার্যকারিতা বজায় রাখার বিধান রাখা হয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছিল। ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং এর আগে অর্থনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।

মঙ্গলবার চুক্তি স্বাক্ষরের আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে ‘দুটি বড় সামরিক ঘাঁটি’ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করবে।

তবে নতুন চুক্তির আনুষ্ঠানিক কাঠামো গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্কের অধীন রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ দিয়েছে।

নতুন চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। নারসারসুয়াকে পুরোনো মার্কিন ঘাঁটি পুনরায় সক্রিয় করা এবং মেস্টারসভিগে নতুন প্রতিরক্ষা স্থাপনা গড়ে তোলার পাশাপাশি পিটুফিক স্পেস বেস সম্প্রসারণের মাধ্যমে আর্কটিকে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো আরও বিস্তৃত হবে।

তবে নতুন ঘাঁটিগুলোতে ঠিক কতজন সেনা মোতায়েন করা হবে, কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম রাখা হবে এবং নির্মাণকাজ পুরোপুরি কবে শুরু হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্র: রয়টার

ChannelNRB Footer