যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে এক মাস বয়সী কন্যাশিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার মা মারাইয়া থমাসকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আদালতে দোষ স্বীকার করেন তিনি।
আদালতের নথি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কানসাস সিটির ৪১০০ ব্লক ফরেস্ট অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়িতে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির শরীরে পোড়ার চিহ্ন দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মারাইয়া থমাস তার এক মাস বয়সী মেয়েকে ঘুম পাড়াতে যাচ্ছিলেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান যে শিশুটিকে খাটে শুইয়ে দেওয়ার বদলে ভুল করে ওভেনে রেখে দিয়েছিলেন।
পরে এক পরিবারের সদস্য পুলিশকে জানান, থমাস তাকে ফোন করে শিশুটির ব্যাপারে দ্রুত বাড়িতে আসতে বলেন। তিনি বাড়িতে পৌঁছে ধোঁয়ার গন্ধ পান এবং শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা শিশুটির শরীরে গুরুতর দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন পান। আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটির পরনে থাকা পোশাকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ঘটনার পর থমাসের বিরুদ্ধে প্রথমে শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে মামলায় আরও গুরুতর অভিযোগ যুক্ত হয়। সর্বশেষ অভিযোগপত্রে তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা এবং শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করে মৃত্যুর অভিযোগ ছিল।
তবে মঙ্গলবার আদালতে দোষ স্বীকারের সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা অভিযোগটি বাদ দেওয়া হয়। থমাস শিশু কল্যাণ বিপন্ন করে মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম-ডিগ্রির অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
জ্যাকসন কাউন্টির একজন বিচারক থমাসকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। তাকে মিসৌরি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন্সের হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাজায় ইতোমধ্যে কারাগারে কাটানো সময়ও গণনা হবে এবং তাকে প্রবেশনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া আদালত তাকে মিসৌরির ক্রাইম ভিকটিমস’ কমপেনসেশন ফান্ডে ৬৮ ডলার পরিশোধ এবং আঙুলের ছাপ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:







