যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক আলোচনা ও সংলাপের পথ খোলা রয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে হুমকি, চাপ কিংবা শক্তি প্রয়োগের পরিবেশে কোনো আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, “আমরা কখনো মাথা নত করব না।” তিনি আরও বলেন, ইরান চাপের কাছে নতি স্বীকার না করেই আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করতে চায়।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের এক দিন আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন এবং চুক্তি না হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করার কথা বলেন। এর পরদিন পেজেশকিয়ান জাতিসংঘের মঞ্চে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না বলে ঘোষণা দেন।
তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। নিউইয়র্কে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করেছেন। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ওই আলোচনাকে গঠনমূলক ও সম্ভাবনাময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জাতিসংঘের ভাষণে পেজেশকিয়ান আবারও বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরানের রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ইরান একদিকে পারমাণবিক অস্ত্রের বিরোধিতা করে, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির অধিকারও ছাড়বে না। ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এগুলো পেজেশকিয়ানের বক্তব্য; সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান রয়েছে।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হতো। ফলে হরমুজকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও নৌবাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, সবাই হরমুজ প্রণালির সুবিধা নেবে, অথচ ইরানকে ওই জলপথ দিয়ে নৌ চলাচল থেকে বঞ্চিত করা হবে—এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, ওই অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বৈরী নৌবহর মোতায়েন ও যুদ্ধের বিস্তার শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে না।
কঠোর বক্তব্যের পাশাপাশি পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেছেন যে ইরান কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। তবে তেহরানের অবস্থান হলো—আলোচনা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও হুমকিমুক্ত পরিবেশে।
এদিকে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন সামরিক চাপ ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং অন্যান্য বিষয়ে নিজেদের শর্ত তুলে ধরেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।
আরও পড়ুন:







