দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের কোয়ামাখুথা এলাকায় একটি বাড়িতে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক নারী ছিলেন, যিনি অন্তঃসত্ত্বা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে কোয়ামাখুথার জিকো এলাকায় একটি বাড়িতে পার্টি চলছিল। সেখানে ১৩ জন পুরুষ ও একজন নারী উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি বাড়িটিতে প্রবেশ করে উপস্থিত লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হন। আহত চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়। ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ জনে। বাকি তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ার পর ভেতরে ঢুকে গুলি চালায়। হামলার পর তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ এখন তিন সন্দেহভাজনকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে নিহতদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পুলিশের ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কাছে ছিল বলে জানা গেছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ ৭২ ঘণ্টার বিশেষ ট্র্যাকিং অভিযান শুরু করেছে। দেশটির ভারপ্রাপ্ত জাতীয় পুলিশ কমিশনার পুলেং পুলেং ডিমপানে কোয়াজুলু-নাটাল প্রাদেশিক পুলিশকে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তকারীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছেন এবং সেটি হামলাকারীদের শনাক্ত করতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য চাওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় উচ্চমাত্রার সহিংস অপরাধের মধ্যে এ ধরনের বন্দুক হামলা নতুন নয়। চলতি বছরও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একাধিক গণগুলির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বিস্তার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধকে দেশটির সহিংসতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন।
সাম্প্রতিক হামলাটির তদন্তে পুলিশ এখন নিহতদের পরিচয়, হামলাকারীদের গতিবিধি এবং হামলার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
সূত্র: দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ (SAPS)
আরও পড়ুন:







