ভারতের রাজস্থানের বিখ্যাত রণথম্বোর জাতীয় উদ্যানে সাফারিতে গিয়ে অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন পর্যটকরা। জঙ্গলের সড়কের ঠিক মাঝখানে একটি বাঘ আরাম করে ঘুমিয়ে পড়ায় থেমে যায় সাফারি যান চলাচল। একপর্যায়ে বাঘটিকে না জাগিয়ে প্রায় ৩০টি পর্যটকবাহী জিপ অপেক্ষা করতে থাকে।
বাঘের এমন নিশ্চিন্ত ঘুমের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন এলেনা নামের এক বিদেশি পর্যটক। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
সাফারি ট্র্যাকের ওপর শুয়ে থাকা বাঘটিকে ভিডিওতে বেশ শান্ত ও নির্বিকার দেখা যায়। তার চারপাশে পর্যটকদের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রাণীটি যেন সেসবের কোনো তোয়াক্কাই করছিল না।
সাফারি জিপগুলো নিরাপদ দূরত্বে থেমে যায়। পর্যটকরাও বাঘটিকে বিরক্ত না করে অপেক্ষা করতে থাকেন এবং দূর থেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
বনের স্বাভাবিক পরিবেশে এমন পরিস্থিতিতে পর্যটকদের যানবাহন থামিয়ে প্রাণীটিকে নিজের মতো চলার সুযোগ দেওয়াই হয়। এবারও বাঘটিকে রাস্তা থেকে সরানোর কোনো চেষ্টা করা হয়নি।
কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর বাঘটিই শেষ পর্যন্ত উঠে দাঁড়ায়। এরপর শরীর টানটান করে কিছুটা আলসেমি ঝেড়ে নিয়ে ধীরে ধীরে সাফারি ট্র্যাক থেকে সরে যায়।
পর্যটকদের গাড়িগুলোও তখন চলাচল শুরু করে। বাঘটিকে দেখে মনে হয়েছে, আশপাশে এতগুলো গাড়ি ও মানুষ থাকা সত্ত্বেও তার বিশ্রামে বিশেষ কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।
ঘটনাটিকে মজারভাবে বর্ণনা করেছেন ভিডিও ধারণকারী পর্যটক এলেনা। তাঁর প্রকাশ করা ভিডিওতে একদিকে রাস্তার মাঝখানে শুয়ে থাকা বাঘ, অন্যদিকে সারিবদ্ধ হয়ে অপেক্ষা করা সাফারি জিপ দেখা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যেও নানা রসিক মন্তব্য দেখা যায়। কেউ ঘটনাটিকে ‘বাঘের যানজট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ বলেছেন—জঙ্গলে শেষ কথা যে বন্যপ্রাণীরই, ঘটনাটি যেন তারই প্রমাণ।
রাজস্থানের রণথম্বোর জাতীয় উদ্যান ভারতের অন্যতম পরিচিত বন্যপ্রাণী পর্যটনকেন্দ্র। বিশেষ করে বাঘ দেখার জন্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এটি জনপ্রিয়।
সাফারিতে পর্যটকরা সাধারণত নির্দিষ্ট পথে জিপে করে বনের ভেতর ঘোরেন এবং বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন। ফলে বাঘের শিকার, চলাফেরা বা বিশ্রামের মতো স্বাভাবিক দৃশ্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে।
এবারও বাঘের শিকারের দৃশ্য নয়, বরং সাফারি রাস্তার মাঝখানে তার নিশ্চিন্ত ঘুম-ই পর্যটকদের জন্য হয়ে উঠেছে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
আরও পড়ুন:







