News Ticker
221.png

স্লিপার বাসে ‘পোড়া গন্ধ’ পেয়েও থামাননি চালক, আগুনে প্রাণ গেল ৯ জনের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৮

শেয়ার

শেয়ার

স্লিপার বাসে ‘পোড়া গন্ধ’ পেয়েও থামাননি চালক, আগুনে প্রাণ গেল ৯ জনের
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত একটি স্লিপার বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও আটজন পুরুষ রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশের মহোবার দিকে যাওয়ার পথে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের নোয়ডা-আগ্রা রুটের ৩৩ কিলোমিটারের কাছে বাসটিতে আগুন লাগে। ওই সময় বাসটিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন।

পুলিশের কাছে দায়ের করা এফআইআর ও যাত্রীদের অভিযোগে উঠে এসেছে, আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে বাসের চালকের কেবিনের দিক থেকে পোড়া গন্ধ পাচ্ছিলেন কয়েকজন যাত্রী।

তারা বিষয়টি চালক ও কন্ডাক্টরকে জানান এবং বাস থামিয়ে বিষয়টি পরীক্ষা করার অনুরোধ করেন। তবে অভিযোগ, চালক বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। এফআইআরে আরও দাবি করা হয়েছে, চালক পোড়া গন্ধকে বাসে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বাস থামাননি। 

অভিযোগ অনুযায়ী, চালক ও কন্ডাক্টর তখন কেবিনে বিড়ি বা সিগারেট পান করছিলেন। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই চালকের আসনের কাছাকাছি আগুনের শিখা দেখা যায়।

আগুন দেখা দেওয়ার পর যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে চালককে বাস থামানোর জন্য চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু এফআইআরে অভিযোগ করা হয়েছে, চালক ও কন্ডাক্টর প্রথমে বাস থামাতে অস্বীকৃতি জানান এবং যাত্রীদের হুমকি দেন।

এরপর আগুন দ্রুত বাসের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘন কালো ধোঁয়ায় যাত্রীদের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং অনেকেই বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। জীবন বাঁচাতে কয়েকজন যাত্রী চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়েন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে চালক ও কন্ডাক্টর বাস ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও যাত্রীরা আগুন নেভানোর পাশাপাশি বাসের জানালা ভেঙে ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনার চেষ্টা করেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী জানান, তিনি তখন বাসের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন লাগার খবর পেয়ে তাকে জাগানো হয়। ততক্ষণে বাসের ভেতর ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল এবং বের হওয়ার পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ঠিক কী কারণে বাসটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। 

বাসযাত্রী সুনীল কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। চালক ও কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। 

অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও আটজন পুরুষ। আগুনের সময় বাসে থাকা যাত্রীদের অনেকে নিরাপদে বের হতে পারলেও কয়েকজন বাসের ভেতরে আটকা পড়ে প্রাণ হারান।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার কথাও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

ChannelNRB Footer