বিশাল এক হাঁড়িতে হাজার হাজার লিটার বেকড বিনস রান্না করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে তুরস্কের কেলকিট শহর। একসঙ্গে রান্না করা হয়েছে ৬ হাজার ৮৪০ লিটার, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৮০৭ গ্যালন বেকড বিনস—যা প্রায় ১৫ হাজার ক্যান বেকড বিনসের সমান। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২২ আগস্ট ২০২৬ এই রেকর্ডটি অর্জিত হয়।
তুরস্কের গুমুশানে প্রদেশের কেলকিটে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করে কেলকিট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, গুমুশানে গভর্নরশিপ এবং কেলকিট পৌরসভা।
বিশাল হাঁড়িতে রান্না করা হয় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিশেষ ধরনের শিম ‘কেলকিট শেকের ফাসুলিয়েসি’ দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী খাবার। কেলকিট অঞ্চলের কৃষিপণ্যকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করা এবং স্থানীয় কৃষকদের সম্মান জানানোই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের হিসাবে, পুরো রান্নায় ব্যবহার করা বেকড বিনসের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৮৪০ লিটার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত মাপ অনুযায়ী এটি প্রায় ১ হাজার ৮০৭ গ্যালন। পরিমাণটি এত বেশি যে সাধারণ আকারের প্রায় ১৫ হাজার ক্যান বেকড বিনসের সমান।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিশাল আয়োজনের পেছনে কৃষক, রন্ধনকর্মী, প্রকৌশলী, খাদ্যনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবক ও পৃষ্ঠপোষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছিল।
কেলকিটের আগে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বেকড বিনস রান্নার রেকর্ডটি ছিল উত্তর মেসিডোনিয়ার। ২০১২ সালে সারসিয়েভো গ্রামের দর্শনার্থীদের জন্য সেখানে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ লিটার বা ১ হাজার ৪৭৯.৩৬ গ্যালন বেকড বিনস রান্না করা হয়েছিল। এবার ৬ হাজার ৮৪০ লিটার রান্না করে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে কেলকিট।
রেকর্ড যাচাই করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিচারক সেইদা সুবাসি-জেমিচি। প্রয়োজনীয় পরিমাপ ও যাচাই শেষে তিনি নিশ্চিত করেন, কেলকিটের রান্না করা বেকড বিনসের পরিমাণ ৬ হাজার ৮৪০ লিটার—যা নতুন বিশ্ব রেকর্ডের জন্য যথেষ্ট।
গিনেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় মানুষের কাছে এ অর্জন ছিল অত্যন্ত আবেগঘন মুহূর্ত। বিশেষ করে প্রবীণদের অনেকে নিজেদের অঞ্চলের কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় গর্ব প্রকাশ করেন।
আয়োজকদের মতে, এই রেকর্ড শুধু রান্নার পরিমাণের দিক থেকে বড় কোনো অর্জন নয়; এর মাধ্যমে কেলকিটের স্থানীয় শিম এবং কৃষি ঐতিহ্যকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাও সম্ভব হয়েছে।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে দেওয়া বক্তব্যে আয়োজকেরা এ অর্জনকে কেলকিট, গুমুশানে এবং পুরো অঞ্চলের জন্য ঐতিহাসিক স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, স্থানীয় কৃষক ও পুরো সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই রেকর্ড অর্জনের মূল শক্তি।
আরও পড়ুন:







