News Ticker
221.png

কঙ্গোয় ১০০ যাত্রী নিয়ে নৌকাডুবি, নিহত অন্তত ৪১

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৪৭

শেয়ার

শেয়ার

কঙ্গোয় ১০০ যাত্রী নিয়ে নৌকাডুবি, নিহত অন্তত ৪১
ছবি: সংগৃহীত

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) টাঙ্গানিকা প্রদেশে টাঙ্গানিকা হ্রদে যাত্রী ও পণ্যবাহী একটি নৌযান ডুবে অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ৪৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, নৌযানটি তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে ডিআর কঙ্গোর টাঙ্গানিকা প্রদেশের কালেমি শহরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে কঙ্গোর মাপেরা গ্রামের কাছে টাঙ্গানিকা হ্রদে নৌযানটি উল্টে ডুবে যায়। টাঙ্গানিকা প্রদেশের পরিবহনমন্ত্রী নরিস মুলঙ্গোয়ি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, নৌযানটিতে প্রায় ১০০ জন যাত্রী ও পণ্য ছিল।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া অ্যানি মোয়োনি জাতিসংঘ-সমর্থিত কঙ্গোলিজ সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও ওকাপিকে জানান, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টার দিকে যাত্রীদের ঘুম ভেঙে যায়। তারা দেখতে পান, নৌযানটি একদিকে কাত হয়ে পড়েছে। এরপর সেটি দ্রুত পানিতে ডুবে যায়। 

তবে ঠিক কী কারণে নৌযানটি উল্টে গেল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছে।

নৌযানটির নাম MV MJP বলে একটি সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নৌযানটি ৪৮০ টনের বেশি গমের আটা এবং চারটি যানবাহন বহন করছিল। তবে অতিরিক্ত পণ্য বা ওজনের কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে—এমন কোনো সরকারি তদন্তের সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি। 

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জেলেসহ উদ্ধারকারী দল তল্লাশি শুরু করে। এখন পর্যন্ত ৪৯ জনকে জীবিত উদ্ধারের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে। ফলে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোট হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

ডিআর কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকায় নদী ও হ্রদপথ মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ দুর্বল হওয়ায় নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে।

দেশটিতে নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট না থাকার মতো নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বেশ কয়েকটি নৌদুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে মধ্য ডিআর কঙ্গোতে রাষ্ট্রীয় পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি কাঠের নৌকা ডুবে অন্তত ২০ জন নিহত হন। 

কিগোমা-কালেমি নৌপথে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা।

গত ২৮ আগস্ট কিগোমা বন্দরে জ্বালানি তোলার সময় কঙ্গোর MV Pacifique নামের একটি নৌযানে আগুন ও বিস্ফোরণ ঘটে। রেডিও ওকাপির তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ছয়জন ক্রু নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। নৌযানটি কিগোমা ও কালেমির মধ্যে চলাচল করত। 

সূত্র: আল জাজিরা 

ChannelNRB Footer