ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে হলিউডের অভিনেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক প্রার্থীদের পাশাপাশি শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নেতানিয়াহু যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভকারীরা ফার্স্ট অ্যাভিনিউয়ের একটি অংশে অবস্থান নেন। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং জাতিসংঘমুখী সরকারি গাড়ির বহরকে বিকল্প পথে যেতে হয়।
বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে ছিল ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘স্টপ আর্মিং ইসরায়েল’ এবং ‘ফান্ড পিপল, নট বোম্বস’ লেখা প্ল্যাকার্ড। তারা ‘লেট গাজা লিভ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলকে সমর্থনের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
বিক্ষোভ থেকে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন এবং ‘Hacks’ সিরিজের অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ তাদের অন্য বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আটক করে।
এছাড়া অভিনেত্রী ও রাজনৈতিক কর্মী সিনথিয়া নিক্সন, অভিনেতা এলিয়ট পেজ, অভিনেত্রী ইন্ডিয়া মুর এবং সংগীতশিল্পী লুসি ডাকাস ও জুলিয়েন বেকারসহ আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি বিক্ষোভে অংশ নেন। তবে নিক্সন ও পেজকে আটক করা হয়নি বলে তাদের প্রতিনিধিদের বরাতে জানানো হয়েছে।
সারান্ডন ও আইনবাইন্ডারকে আটক করার ছবি ও ভিডিওও প্রকাশিত হয়েছে। আইনবাইন্ডারকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় ‘Netanyahu out of New York’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, তার গ্রেপ্তার নিয়ে আলোচনার চেয়ে গাজা ও ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতির দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
বিক্ষোভের আয়োজক Jewish Voice for Peace জানিয়েছে, ১০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আল জাজিরা, সিবিএস নিউইয়র্ক ও অন্যান্য প্রতিবেদনে পুলিশি আটকের সংখ্যা প্রায় ১০০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD) প্রাথমিকভাবে সুনির্দিষ্ট চূড়ান্ত সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ফলে আটকের চূড়ান্ত সংখ্যা পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসে এবং কংগ্রেস প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়েরসহ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিক্ষোভের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কক্ষ থেকেও বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন প্রতিনিধি বেরিয়ে যান। ফলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় অধিবেশন কক্ষের একটি বড় অংশ ফাঁকা হয়ে যায়। একই সময়ে অন্য কিছু প্রতিনিধি অবশ্য সেখানে থেকে বক্তব্য শোনেন এবং কেউ কেউ তাকে করতালি দেন।
ভাষণে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন এবং গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন এবং ইসরায়েলের সমালোচকদেরও আক্রমণ করেন।
বিক্ষোভকারীরা মূলত গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা এবং নেতানিয়াহুর জাতিসংঘে উপস্থিতির প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভে ফিলিস্তিনি, ইহুদি, ইরানি ও লেবানিজ বংশোদ্ভূত নিউইয়র্কবাসীসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষ অংশ নেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা একটি প্রতীকী ঘুড়িও ওড়ান, যাতে ‘Free Palestine’ লেখা ছিল। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর দেওয়া হুমকির প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:







