ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানিকে ‘প্রফেসর অব প্র্যাকটিস ইন সাসটেইনেবিলিটি’ পদে নিয়োগ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি। তবে এই নিয়োগের পর বিশ্ববিদ্যালয়টি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে আনুষ্ঠানিক একাডেমিক অভিজ্ঞতার পরিবর্তে অনন্ত আম্বানির ব্যবসায়িক ও দাতব্য কর্মকাণ্ডকে কেন এত বড় একাডেমিক স্বীকৃতি দেওয়া হলো।
নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি গত ১৪ সেপ্টেম্বর জানায়, সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা, প্রাণীকল্যাণ ও পরিবেশগত কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনন্ত আম্বানিকে এই পদ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ভারতের গুজরাটে ৩ হাজার ৫০০ একর আয়তনের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণকেন্দ্র ভান্তারা (Vantara) প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
অনন্ত আম্বানিকে যে পদ দেওয়া হয়েছে, তার আনুষ্ঠানিক নাম Professor of Practice in Sustainability। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত গবেষণাভিত্তিক অধ্যাপক পদ থেকে আলাদা। সাধারণত কোনো পেশা, শিল্প, ব্যবসা বা বাস্তবক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য এ ধরনের পদ দেওয়া হয়।
নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এই পদে স্বাগত জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ক্রিস ডে বলেন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ঠেকানো ও প্রকৃতি পুনরুদ্ধারে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন এবং অনন্ত আম্বানি এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনের উদাহরণ তৈরি করছেন।
নিয়োগ ঘোষণার পর কয়েকজন শিক্ষাবিদ ও সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ প্রকাশ্যে এর সমালোচনা করেন। ভারতীয় পরিবেশবিদ ও লেখক রামচন্দ্র গুহ প্রশ্ন তুলেছেন, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা বহু গবেষক ও বিশেষজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও অনন্ত আম্বানিকে এই পদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়নের স্থানীয় শাখার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ম্যাট পেরিও জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের মধ্যে এই নিয়োগ নিয়ে আপত্তি রয়েছে। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের অধ্যাপক লায়লা মেহতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি অর্থায়ন কমলে ধনী ব্যক্তি ও করপোরেট অর্থ একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রভাব বাড়াতে পারে।
অনন্ত আম্বানির অধ্যাপক পদে নিয়োগের বিতর্কের সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠিত ভান্তারার কার্যক্রমও আলোচনায় এসেছে। ভান্তারা নিজেকে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণকেন্দ্র হিসেবে পরিচয় দেয়। তবে বিভিন্ন পর্যায়ে সেখানে বিপুলসংখ্যক বন্যপ্রাণী সংগ্রহ ও আমদানি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সমালোচনার বিপরীতে নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অনন্ত আম্বানির সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য, প্রাণীকল্যাণ ও পরিবেশগত কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পদ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজে অনন্ত আম্বানি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন হাইড্রোজেন, কার্বন ক্যাপচার, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও অন্যান্য নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন।
অনন্ত আম্বানি নিজেও নিয়োগ গ্রহণের পর এক বক্তব্যে সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদকে তিনি অতীত কাজের স্বীকৃতির পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও কাজ করার দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন।
আরও পড়ুন:







