ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার স্কুলে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ এবং ইতালীয় ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই—এমন নির্দিষ্ট বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রতি শ্রেণিতে ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার বিধান অনুমোদন করেছে। ইতালির মন্ত্রিসভা ২৪ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রি-ল (decree-law) অনুমোদন করে।
সরকারের ভাষ্য, নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য স্কুলে শিক্ষার্থীদের একীভূত করা, ইতালীয় ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানো এবং কোনো শ্রেণিকক্ষে ভাষাগতভাবে বিচ্ছিন্ন শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ঘনত্ব ঠেকানো। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এটিকে এমন একটি স্কুলব্যবস্থার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে একীভূতকরণের পাশাপাশি নিয়ম-কানুনও কঠোরভাবে মানা হবে।
নতুন ডিক্রি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত বা নিরাপত্তাজনিত কারণ ছাড়া স্কুলের শ্রেণিকক্ষ ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে এমনভাবে মুখ ঢেকে রাখা যাবে না, যাতে শিক্ষার্থীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হয়। এর ফলে বোরকা ও নিকাব নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। স্কুল-পরিবারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে।
নিয়ম ভাঙলে ২০০ থেকে ১,০০০ ইউরো পর্যন্ত প্রশাসনিক জরিমানা হতে পারে। কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী নিয়ম ভাঙলে জরিমানার দায় তার অভিভাবকের ওপর পড়বে।
তবে নতুন বিধানটি সব ধরনের মুসলিম পোশাক নিষিদ্ধ করছে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলোনি বোরকা ও নিকাবের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করলেও সাধারণ হিজাবকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়নি।
সরকারের নতুন ব্যবস্থায় প্রতি শ্রেণিতে ইতালীয় ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই—এমন নির্দিষ্ট বিদেশি শিক্ষার্থীর অনুপাত ৩০ শতাংশের বেশি না রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন ভর্তি হওয়া প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রথম শ্রেণিগুলোতে কার্যকর হবে।
নতুন ডিক্রিতে ভাষাগত সমস্যার কারণে কোনো শিশুর স্কুলে একীভূত হওয়া ও শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হলে তার অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষার বিনামূল্যের কোর্সে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
অভিভাবকদের সহযোগিতা না করার ক্ষেত্রে ২০০ থেকে ১,০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। ইতালীয় ভাষার শিক্ষার লক্ষ্য হিসেবে অন্তত A2 স্তর অর্জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মেলোনি সরকারের বক্তব্য, একই শ্রেণিতে ইতালীয় ভাষায় দুর্বল শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে তাদের পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও প্রভাব পড়তে পারে। সরকারের মতে, ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্কুলে তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণভাবে বণ্টন করলে একীভূতকরণ সহজ হবে।
শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা বলেছেন, ভাষাগত অদক্ষতা শিক্ষাগত অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং অভিভাবকদের ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে শিশুদের স্কুলজীবনে অংশগ্রহণ আরও কার্যকর করা সম্ভব।
সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে ইতালিতে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিরোধী নেতা এলি শ্লেইন এই উদ্যোগের সমালোচনা করে এটিকে শিশুদের ক্ষতির বিনিময়ে নতুন ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে Save the Children সতর্ক করেছে, জাতীয়তা বা ইতালীয় ভাষায় সীমিত দক্ষতার কারণে শিশুদের অন্য স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
বোরকা-নিকাব সংক্রান্ত বিধান ডিক্রি-ল হিসেবে কার্যকর হওয়ার পথ পেয়েছে। তবে ইতালির ডিক্রি-লকে আইনে পরিণত করতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন এবং সেটি ৬০ দিনের মধ্যে করতে হবে।
আরও পড়ুন:







