ফুটবল মাঠে সাফল্যের পাশাপাশি নিজ দেশ সেনেগালের মানুষের জন্য নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্ত সাদিও মানে। এবার দাতব্য কর্মকাণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে বড় পরিসরে কৃষি-শিল্পে বিনিয়োগের পথে হাঁটলেন সেনেগালের এই তারকা ফুটবলার। নিজের জন্মস্থান বাম্বালিতে প্রায় ১১.৭ বিলিয়ন CFA ফ্রাঁ, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ২৫০ কোটি টাকা, বিনিয়োগে গড়ে উঠছে একটি বৃহৎ কৃষি-শিল্প প্রকল্প।
প্রকল্পটির নাম ‘এসএম১০ অ্যাগ্রো’। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাম্বালিতে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সেনেগালের দক্ষিণাঞ্চলের সেদিউ অঞ্চলে ৫০০ হেক্টর জমির ওপর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
‘এসএম১০ অ্যাগ্রো’-এর অন্যতম প্রধান অংশ হচ্ছে বিশাল আমবাগান। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭৮ হাজার আমগাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ফলন পেতে প্রায় তিন বছর সময় লাগতে পারে।
শুধু আম উৎপাদন নয়, স্থানীয় কৃষিপণ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে মূল্য সংযোজনের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় আম সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হবে। এর একটি ইউনিটে আম থেকে বিশেষ ধরনের বাটার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
সাদিও মানে জানিয়েছেন, সেদিউ অঞ্চলে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার ঘাটতির কারণে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম নষ্ট হয়ে যায়। তাঁর লক্ষ্য হলো স্থানীয় কৃষিপণ্য স্থানীয়ভাবেই প্রক্রিয়াজাত করে এর অর্থনৈতিক মূল্য ধরে রাখা।
“আমাদের জমির সম্পদ আমাদের দেশেই থাকুক”—প্রকল্পটি উপস্থাপনের সময় এমন লক্ষ্য তুলে ধরেছেন মানে।
প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় প্রভাবগুলোর একটি হতে পারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ‘এসএম১০ অ্যাগ্রো’-এর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ১ হাজার সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরির কথা বলা হয়েছে। পরিবহন, সরবরাহ ও অন্যান্য সহযোগী সেবার মাধ্যমে পরোক্ষ কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
কিছু প্রতিবেদনে প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ২,৫০০ পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে স্থানীয় তরুণদের জন্য কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে কাজের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
‘এসএম১০ অ্যাগ্রো’-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে তরুণদের জন্য কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন পেশায় স্থানীয় তরুণ ও নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের সঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এবং আবাসন সুবিধারও পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি শুধু একটি আমবাগান বা কারখানা নয়; বরং উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানকে একসঙ্গে যুক্ত করার একটি কৃষি-শিল্প অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে ‘এসএম১০ অ্যাগ্রো’ তাঁর কর্মকাণ্ডে নতুন একটি দিক তুলে ধরছে। এবার শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা আর্থিক সহায়তার বদলে উৎপাদন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
সেনেগালের সরকারি সংবাদ সংস্থা APS-এর প্রতিবেদনে প্রকল্পটিকে কৃষিপণ্যের স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অর্থনৈতিক মূল্য ধরে রাখার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দেশটির বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা APIX-এর মহাপরিচালক বাকারি সেগা বাথিলি এটিকে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
১৯ সেপ্টেম্বর বাম্বালিতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সেনেগালের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সেরিন গুয়ে দিয়প উপস্থিত ছিলেন। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের গুরুত্ব তুলে ধরে সাদিও মানের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেদিউ অঞ্চল সেনেগালের আম উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে স্থানীয়ভাবে আম প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা তৈরি হলে কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন, কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে।
আরও পড়ুন:







