News Ticker
221.png

ভয়াবহ বন্যায় তলিয়েছে ব্যাংকক, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১২

শেয়ার

শেয়ার

ভয়াবহ বন্যায় তলিয়েছে ব্যাংকক, জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক। শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, দোকানপাট ও আবাসিক এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানিতে ডুবে গেছে সড়ক। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ব্যাংককের সব ৫০টি জেলাকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। 

ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন শনিবার এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মানুষের জীবন ও সরকারি-বেসরকারি সম্পদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে খাল ও জলাধারের আশপাশের এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ব্যাংককে একটানা ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৪৮ ঘণ্টায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত ৩০০ মিলিমিটারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। পূর্ব ব্যাংককের এলাকাগুলোতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ছিল।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মিন বুরি এলাকায় প্রায় ২৭৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং ক্লং সাম ওয়ায় প্রায় ২৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ব্যাংককের খালগুলো পানিতে পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দ্রুত বন্যার রূপ নেয়।

বন্যার পানিতে ব্যাংককের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক তলিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় গাড়ি পানিতে আটকে পড়ে বা আংশিক ডুবে যায়। কোথাও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, আবার কোথাও চালকরা গাড়ি ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে অনেক এলাকায় হাঁটুপানি থেকে কোমরসমান পানি পেরিয়ে চলতে দেখা গেছে। বন্যার কারণে বহু দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে এবং স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে দোকান ও সুপারমার্কেটে ভিড় করছেন।

শহরের খালসংলগ্ন ও নিচু এলাকার বহু বাড়িঘর ও দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। ব্যাংকক কর্তৃপক্ষ খালের আশপাশের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে পানি বাড়তে থাকা এলাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ব্যাংককের বিভিন্ন স্কুলকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্র ও ফিল্ড কিচেন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এ ছাড়া জরুরি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শয্যাশায়ী রোগী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের চিহ্নিত করে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। 

বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে থাইল্যান্ডের আবহাওয়া বিভাগ আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। সপ্তাহান্তজুড়ে বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। 

ব্যাংককের গভর্নর জানিয়েছেন, বৃষ্টি কমে গেলে পানি ধীরে ধীরে নেমে যাওয়ার কথা। তবে খালগুলো বর্তমানে প্রায় পূর্ণ থাকায় পানি নিষ্কাশনে সময় লাগতে পারে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত পাম্পের মাধ্যমে পানি সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ভয়াবহ বন্যার মধ্যেও ব্যাংককের প্রধান সুভর্ণভূমি বিমানবন্দর স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পর্যটকদের আবহাওয়া ও সড়কের পরিস্থিতির কারণে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে বন্যার কারণে শহরের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গণপরিবহন ব্যবহারকারীদেরও সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

ব্যাংককের ৫০টি জেলাকে দুর্যোগকবলিত ঘোষণা করার ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জরুরি সহায়তা, পানি নিষ্কাশন, আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে আরও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে।

সূত্র: রয়টার্স 

ChannelNRB Footer