গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক প্লাকা এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে বিস্ফোরণের পর ভবনটি ধসে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর শনিবার আরও মরদেহ উদ্ধার করা হলে নিহতের সংখ্যা ছয়ে দাঁড়ায়।
গ্রিসের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনটির ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজন মার্কিন নাগরিক এবং একটি বয়স্ক গ্রিক দম্পতি ছিলেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্লাকা এলাকার লিসিক্রাতুস স্ট্রিটে বিস্ফোরণটি ঘটে। ওই এলাকা এথেন্সের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা এবং অ্যাক্রোপলিস ও টেম্পল অব অলিম্পিয়ান জিউসের কাছাকাছি।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় আবাসিক ভবনটির বড় অংশ ধসে পড়ে। আশপাশের কয়েকটি বাড়ি, দোকান ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের ধাক্কায় ধ্বংসাবশেষ ও কাচ আশপাশের কয়েকটি ব্লক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
ভবনটিতে একটি অ্যাপার্টমেন্টে বয়স্ক এক দম্পতি বসবাস করতেন। অন্য একটি অ্যাপার্টমেন্টে চার মার্কিন পর্যটক অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়।
ওই চার পর্যটক শুক্রবার বিকেলে এথেন্স বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তারা বিমানবন্দরে পৌঁছাননি। পরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে তাদের সন্ধান শুরু করেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে একজন নারীসহ কয়েকজনকে নিখোঁজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে উদ্ধার অভিযান এগিয়ে যাওয়ার পর একে একে আরও মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে এথেন্সের মেয়র হারিস দুকাস জানিয়েছেন, বিস্ফোরণটি গ্যাস অবকাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বিস্ফোরণের আগে এলাকায় গ্যাসের গন্ধ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ফায়ার সার্ভিসের অপরাধ তদন্ত ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভবনের কিছু অংশ দাঁড়িয়ে থাকায় নতুন করে ধসের আশঙ্কা ছিল। পাশাপাশি পাশের কয়েকটি ভবনও নিরাপত্তার কারণে খালি করে দেওয়া হয়।
প্রায় ৩০ জন দমকলকর্মী, বিশেষ উদ্ধারযান এবং তিনটি প্রশিক্ষিত উদ্ধার কুকুর দিয়ে অভিযান চালানো হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কেউ আটকে আছেন কি না, তা শনাক্ত করতে বিশেষ শব্দ শনাক্তকারী যন্ত্রও ব্যবহার করা হয়।
বিস্ফোরণে শুধু মূল ভবনটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, আশপাশের বাড়িঘর, দোকান ও গাড়িও ক্ষতির শিকার হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের কিছু অংশ ছড়িয়ে পড়ে রাস্তা পর্যন্ত।
নিরাপত্তার কারণে আশপাশের কয়েকটি ভবন থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। একটি পাশের ভবন থেকে দুই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
বিস্ফোরণের কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিকের সম্ভাবনা সামনে এলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত কারণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
প্লাকা এথেন্সের ঐতিহাসিক ও পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি আশপাশের ভবনগুলোর স্থিতিশীলতাও পরীক্ষা করছে।
আরও পড়ুন:







