পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে একটি পুলিশ চেকপোস্টে বোমা হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ডেরা ইসমাইল খান জেলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ডেরা ইসমাইল খান জেলার দারাজিন্দা এলাকার আমান মেলা চেকপোস্টে বিস্ফোরণটি ঘটে। চেকপোস্টটি ডেরা ইসমাইল খান- কোয়েটা সড়কে মুঘল কোট ও দারাজিন্দার কাছাকাছি এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সরকারি কর্মী এবং বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে আটজন পুরুষ, দুইজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি ব্যবহার করে হামলাটি চালানো হয়। আন্তর্জাতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের ধরন ও হামলার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে।
বিস্ফোরণের পর পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেন। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্ফোরণের কারণ ও ব্যবহৃত বিস্ফোরকের ধরন নির্ধারণে কাজ করছে।
ইউরোনিউজ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
খাইবার পাখতুনখাওয়া দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের জঙ্গি সহিংসতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সাম্প্রতিক সময়েও অঞ্চলটিতে পুলিশ, সামরিক ও অন্যান্য নিরাপত্তা স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক হামলা হয়েছে।
হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং আলামত সংগ্রহ করছে। বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:







