News Ticker
221.png

১৬ বছর বয়সেই ‘এআই রোবট কচ্ছপ’ বানিয়ে তাক লাগাল কিশোর

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:১৬

শেয়ার

শেয়ার

১৬ বছর বয়সেই ‘এআই রোবট কচ্ছপ’ বানিয়ে তাক লাগাল কিশোর
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই পানিদূষণ শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে রোবট কচ্ছপ তৈরি করে আলোচনায় এসেছে কানাডার অন্টারিওর কিশোর ইভান বুডজ। তার তৈরি স্বয়ংক্রিয় রোবটটির নাম ‘বার্ট’। কচ্ছপের মতো পানির নিচে চলতে সক্ষম এই রোবট পানিতে থাকা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তে এআই ও বিশেষ ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে। 

ইভানের রোবট তৈরির যাত্রা শুরু হয় ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে। অন্টারিওতে দাদা-দাদির বাড়ির সুইমিংপুলে একটি রোবট পানিতে নামানোর পর তিনি দেখেন, সেটি ঠিকভাবে ভেসে থাকতে বা সাঁতার কাটতে পারছে না। বরং পানিতে নামানোর পর সেটি সরাসরি তলিয়ে যাচ্ছিল।

এর আগে অন্টারিওর দুর্গম এলাকায় ক্যাম্পিংয়ের সময় একটি স্ন্যাপিং কচ্ছপকে শান্তভাবে পানির মধ্য দিয়ে চলতে দেখেছিলেন ইভান। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি ভাবেন, প্রচলিত প্রপেলার বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যবহার না করে কচ্ছপের স্বাভাবিক সাঁতারের কৌশল অনুসরণ করে রোবট তৈরি করা যায় কি না।

সাধারণ পানির নিচের রোবট অনেক সময় প্রপেলার, পাখা কিংবা উচ্চচাপের পানির প্রবাহ ব্যবহার করে চলাচল করে। এতে পানির নিচে শব্দ ও অতিরিক্ত নড়াচড়া তৈরি হতে পারে।

ইভানের তৈরি ‘বার্ট’ কচ্ছপের মতো ফ্লিপার বা পা ব্যবহার করে পানির নিচে চলাচল করে। রোবটটির গতি ঘণ্টায় প্রায় ০.৫ মাইল। এর নকশার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো তুলনামূলকভাবে শান্তভাবে পানির নিচে চলাচল করা, যাতে জলজ পরিবেশ পর্যবেক্ষণের সময় অতিরিক্ত শব্দ বা আলোড়ন তৈরি না হয়।

‘বার্ট’-এর ভেতরে রয়েছে একটি ক্ষুদ্র কম্পিউটার, ক্যামেরা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি শনাক্তের জন্য প্রশিক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা। রোবটটির ওপর যুক্ত করা হয়েছে পানির নিচে ত্রিমাত্রিক তথ্য সংগ্রহে সক্ষম বিশেষ ডিজিটাল হলোগ্রাফিক ইমেজিং প্রযুক্তি।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পানিতে থাকা অতি ক্ষুদ্র কণার আকার ও গঠন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে এআই সেগুলো বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করে। এর উদ্দেশ্য হলো কোনো কণা মাইক্রোপ্লাস্টিক কি না, তা শনাক্ত করা। 

ঘোলাটে পানিতেও কাজ করার সক্ষমতা বাড়াতে রোবটটিতে শব্দতরঙ্গভিত্তিক যন্ত্রও যুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় কাজের সুবিধার জন্য রয়েছে সৌর প্যানেল। 

ইভানের নিজস্ব পরীক্ষায় কৃত্রিমভাবে তৈরি প্রবাল বিবর্ণতার নমুনা শনাক্ত করতে ‘বার্ট’ প্রায় ৯৬ শতাংশ নির্ভুলতা দেখিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই ফল নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার পরিবেশে পাওয়া।

প্রাকৃতিক সমুদ্র, হ্রদ কিংবা প্রবালপ্রাচীরের মতো জটিল পরিবেশে একই মাত্রার নির্ভুলতা বজায় থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাই পরীক্ষার এই ফলকে বাস্তব পরিবেশে চূড়ান্ত সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রাথমিক পরীক্ষার পর ইভান রোবটটিকে সুইমিংপুলের বাইরে নিয়ে যান। অন্টারিও হ্রদেও ‘বার্ট’-এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।

রোবটটি এখনো সম্পূর্ণভাবে মানুষের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে যেকোনো দিকে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতে পারে না। এটি পূর্বনির্ধারিত অনুসন্ধানপথ অনুসরণ করে এবং কোনো অস্বাভাবিক বস্তু শনাক্ত করলেও সেটির কাছে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নমুনা সংগ্রহ করার ব্যবস্থা এখনো তৈরি হয়নি। 

ইভানের এই উদ্ভাবন ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। ২০২৬ সালের Regeneron International Science and Engineering Fair (ISEF)-এ প্রকল্পটির জন্য তিনি ৫০ হাজার ডলারের Gordon E. Moore Award পান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই প্রকল্পের জন্য তিনি অন্যান্য স্বীকৃতিও পেয়েছেন।

ইভানের পরিকল্পনা একটি রোবটেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে একই ধরনের একাধিক রোবট কচ্ছপ পানিতে একসঙ্গে নামিয়ে বড় জলাশয় বা প্রবালপ্রাচীরের বিস্তৃত এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে চান তিনি।

এ ছাড়া ‘বার্ট’-এর মাধ্যমে সরাসরি পানির নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থাও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাকৃতিক জলাশয়ে আরও পরীক্ষা চালিয়ে রোবটটির সক্ষমতা যাচাই করাও তার পরবর্তী লক্ষ্য।

মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে জলজ পরিবেশের অন্যতম আলোচিত দূষণ সমস্যা। সাধারণত পানির নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করতে হয়। ইভানের প্রকল্পের লক্ষ্য হলো পানির নিচেই প্রযুক্তির সাহায্যে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করার একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা তৈরি করা।

‘বার্ট’ এখনো গবেষণা ও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। তবে ১৬ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থীর তৈরি এই প্রকল্পে রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবেশবিজ্ঞানের সমন্বয় ভবিষ্যতের পানিদূষণ পর্যবেক্ষণে নতুন ধরনের প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

ChannelNRB Footer