যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত রয়্যাল এয়ার ফোর্স (RAF) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি’র সন্দেহে তদন্ত চলছে। ঘটনাটির তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে দেশটির কাউন্টার টেররিজম পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, স্থানীয় সময় রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতের শেষভাগে ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির দিকে এগিয়ে যাওয়া তিনটি সন্দেহজনক গাড়ির খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করে। সশস্ত্র পুলিশ পরে ওয়েলফোর্ড এলাকায় পাঁচজনকে আটক করে। প্রথমে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের Explosives Act-এর অধীনে অপরাধের সন্দেহ করা হয়। পরে তাদের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি’র সন্দেহে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তারের পর তিনটি ভ্যানকে ঘিরে ৪০০ মিটারের একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর Explosive Ordnance Disposal (EOD) বিশেষজ্ঞরা যানবাহনগুলো পরীক্ষা করেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের প্রায় ৮৫টি পরিবারকে তাদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশ ঘটনাটিকে ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। পরে কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে।
কাউন্টার টেররিজম পুলিশের সিনিয়র ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর ভিকি ইভান্স জানান, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পাঁচজনই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারীরা অন্যান্য অংশীদার সংস্থার সঙ্গে কাজ করে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন।
RAF Fairford যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটি এবং দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিমানবাহিনী এটি ব্যবহার করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের সঙ্গে ঘাঁটিটির নামও উঠে এসেছে। ফলে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত এই ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্ব পেয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেয়ারফোর্ডে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের কারণে ঘাঁটিটি বর্তমানে বিশেষ নিরাপত্তা গুরুত্ব বহন করছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সন্দেহভাজনরা বিমানঘাঁটিতে ‘বড় ধরনের ক্ষতি’ করার চেষ্টা করছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ তাদের বিষয়ে আগে থেকেই তদন্ত করছিল। তবে ব্রিটিশ পুলিশের প্রকাশ্য বিবৃতিতে আগাম নজরদারি বা ওই দাবির বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের এই পর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য ও আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ বা দোষ প্রমাণিত হয়নি। পুলিশও সাধারণ মানুষকে অনুমাননির্ভর তথ্য বা গুজব না ছড়িয়ে সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:







