News Ticker
221.png

যুক্তরাষ্ট্রে নর-ইস্টার ঝড়ে বিদ্যুৎহীন লক্ষাধিক গ্রাহক, বাতিল ৫ শতাধিক ফ্লাইট

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৫২

আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৭

শেয়ার

শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে নর-ইস্টার ঝড়ে বিদ্যুৎহীন লক্ষাধিক গ্রাহক, বাতিল ৫ শতাধিক ফ্লাইট
ছবি: সংগৃহীত

শক্তিশালী নর-ইস্টার ঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল। প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি, উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাস ও বন্যায় নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটসসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় এক পর্যায়ে এক লাখের বেশি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বাতিল হয়েছে শত শত ফ্লাইট এবং হাজারো ফ্লাইটে দেখা দিয়েছে বিলম্ব। 

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের ওয়াশিংটন ডিসি থেকে মেইন পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ঝড়ের প্রভাব দেখা যায়। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা জানিয়েছে, মিড-অ্যাটলান্টিক ও নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যা, বিপজ্জনক স্রোত, শক্তিশালী দমকা বাতাস ও ভারী বৃষ্টির ঝুঁকি ছিল।

শনিবার ঝড়ের তীব্রতার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে ১ লাখের বেশি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। পরে বিদ্যুৎ সংযোগ কিছুটা পুনরুদ্ধার হলেও রাত পর্যন্ত কানেকটিকাট, নিউইয়র্ক, ম্যাসাচুসেটস, নিউ জার্সি, রোড আইল্যান্ড ও পেনসিলভানিয়ায় ৭৩ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন।

নিউইয়র্ক ও কানেকটিকাটে পৃথকভাবে ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। ঝড়ের বাতাসে গাছ, ডালপালা ও বিদ্যুতের তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। 

ঝড়ের কারণে বিমান চলাচলেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। FlightAware-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট ৪৪৫টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৩ হাজার ১৬টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।

বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ নিউইয়র্ক অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের ভোগান্তি দেখা দেয়। প্রবল বাতাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

রোববারও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বোস্টন লোগান বিমানবন্দরেই স্থানীয় সময় রোববার সকাল নাগাদ ২৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য পাওয়া যায়। 

নর-ইস্টারের সবচেয়ে বড় প্রভাবগুলোর একটি ছিল উপকূলীয় বন্যা। নিউ জার্সির বিভিন্ন নিচু এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। রাস্তা ও বসতবাড়িতে পানি ওঠায় কিছু এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে হয়।

নিউ জার্সিতে বার্গেন কাউন্টি থেকে কেপ মে কাউন্টি পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বন্যার খবর পাওয়া যায়। কিছু জার্সি শোর এলাকায় স্বেচ্ছায় নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বন্যার পানিতে আটকে পড়া বেশ কয়েকজনকে উদ্ধারও করা হয়। 

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডসহ উপকূলীয় এলাকাতেও প্রবল ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে রাস্তাঘাট ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। কোথাও কোথাও বাড়িঘর ও যানবাহন পানিতে আটকা পড়ে। 

ঝড়ের প্রবল বাতাসে গাছ উপড়ে পড়ে নিউইয়র্ক সিটিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে তাঁকে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটির একজন কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রবল বাতাসে বিভিন্ন স্থানে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় সড়ক যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।

ঝড়ের আশঙ্কায় নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির গভর্নররা ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। কানেকটিকাটের গভর্নরও রাজ্যের জরুরি পরিচালনা কেন্দ্র সক্রিয় করেন।

কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় এলাকা, সমুদ্রসৈকত ও প্লাবিত সড়ক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানায়। উচ্চ জোয়ারের সঙ্গে ঝড়ের প্রভাব মিলে যাওয়ায় কয়েকটি এলাকায় একাধিক দফায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা জানিয়েছিল, মিড-অ্যাটলান্টিক ও নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে সোমবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, শক্তিশালী বাতাস, উপকূলীয় বন্যা ও বিপজ্জনক স্রোতের ঝুঁকি থাকতে পারে। 

ChannelNRB Footer