News Ticker
221.png

বেলুচিস্তানে ৭১ জনের বেশি ভারত-সমর্থিত আফগান সন্ত্রাসী নিহত: আইএসপিআর

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩৫

শেয়ার

শেয়ার

বেলুচিস্তানে ৭১ জনের বেশি ভারত-সমর্থিত আফগান সন্ত্রাসী নিহত: আইএসপিআর
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে গত ৯৬ ঘণ্টায় বিভিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ৭১ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, কোয়েটা, জিয়ারাত, নুশকি ও ম্যান্ড এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে নিহতদের মধ্যে ভারত-সমর্থিত এবং আফগান প্রক্সি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিরা রয়েছে। সামরিক বাহিনী বলছে, অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়েছে।

আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, বেলুচিস্তানের কোয়েটা জেলার শাবান ও আশপাশের এলাকায় ‘অপারেশন শাবান’ শুরু হয় ২১ সেপ্টেম্বর। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় কয়েকটি সন্ত্রাসী আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করে।

প্রথম দফায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তীব্র গোলাগুলির পর ৩৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানায় আইএসপিআর। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় অভিযান আরও জোরদার করা হলে আরও ২৩ জন নিহত হয়। এ নিয়ে শাবান অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৬। 

আইএসপিআরের দাবি, অভিযানের সময় একাধিক আস্তানা পরিষ্কার করা হয়েছে এবং সেখান থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।

শাবান ছাড়াও বেলুচিস্তানের অন্যান্য এলাকায় পৃথক গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

২৫ সেপ্টেম্বর নুশকি জেলায় একটি সন্ত্রাসী আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে হত্যা করার দাবি করেছে আইএসপিআর। একই সময়ে ম্যান্ড এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও ছয়জন নিহত হয়েছে বলে সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

এই দুই অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরিমাণ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

আইএসপিআর তাদের বিবৃতিতে নিহতদের একটি অংশকে ‘ভারত-সমর্থিত’ এবং আফগান প্রক্সি হিসেবে বর্ণনা করেছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আরও অভিযোগ করেছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সংশ্লিষ্টতা এবং ভারতের সমর্থন পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে।

তবে এসব অভিযোগ পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারত বা আফগান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের বিষয়ে তাৎক্ষণিক পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইএসপিআর তাদের বিবৃতিতে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ ও ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ শব্দ ব্যবহার করেছে। পাকিস্তান সরকার সাধারণত নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র ব্যক্তিদের ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করে।

অন্যদিকে বেলুচিস্তানে ভারত-সমর্থিত বলে পাকিস্তান যেসব নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অভিহিত করে, তাদের জন্য ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। 

আইএসপিআর জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী শাবান ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভাষ্য, এলাকায় সন্ত্রাসী হুমকি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চলবে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, দেশজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কর্মসূচির আওতায় অব্যাহত থাকবে।

বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রদেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে আসছে।

সর্বশেষ অভিযানে ৭১ জনের বেশি নিহত হওয়ার দাবি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী করলেও, নিহতদের পরিচয় ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিস্তারিত স্বাধীন তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে নিহতের সংখ্যা ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আইএসপিআরের দাবিকেই বর্তমান প্রতিবেদনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ChannelNRB Footer