News Ticker
221.png

প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশের চেষ্টা করবে স্টারশিপ রকেট

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৯

শেয়ার

শেয়ার

প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশের চেষ্টা করবে স্টারশিপ রকেট
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছেছে স্পেসএক্সের বিশালাকৃতির স্টারশিপ রকেট। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের স্টারবেস থেকে উৎক্ষেপণের পর মিশনের গুরুত্বপূর্ণ এই মাইলফলক অর্জন করে মহাকাশযানটি। একই মিশনে ২৬টি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক স্যাটেলাইটও কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে।

এটি ছিল স্টারশিপের ১৪তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন। ২০২৩ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর আগের ১৩টি মিশনই সাব-অরবিটাল পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। অর্থাৎ সেগুলো মহাকাশের সীমানা অতিক্রম করলেও পৃথিবীর চারপাশে স্থায়ী কক্ষপথে প্রবেশ করেনি।

উড্ডয়নের পর মিশনে একটি অপ্রত্যাশিত সমস্যা দেখা দেয়। স্টারশিপের একটি প্রধান ইঞ্জিন নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে মিশন নিয়ন্ত্রণকারী দল কক্ষপথে প্রবেশের পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।

পরে প্রকৌশলীদের মূল্যায়নে দেখা যায়, বাকি সক্ষমতা ব্যবহার করে কক্ষপথে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। এরপর একটি ইঞ্জিনের সাহায্যে প্রয়োজনীয় বার্ন সম্পন্ন করে স্টারশিপ সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে যায়।

কক্ষপথে পৌঁছানোর পর মহাকাশযানটি প্রায় ২৬৯ কিলোমিটার উচ্চতায় একে একে ২৬টি স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইট মোতায়েন করে। স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্যাটেলাইটগুলো স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। 

মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী স্টারশিপের এই মিশন প্রায় ১০ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল। সেই সময়ে মহাকাশযানটির পৃথিবীকে প্রায় ছয়বার প্রদক্ষিণ করার পরিকল্পনা ছিল।

তবে ইঞ্জিনের সমস্যার পর মিশনটি আগেভাগেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার মাথায় স্টারশিপকে নিয়ন্ত্রিতভাবে কক্ষপথ থেকে নামিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করানো হয়। 

মহাকাশযানটি সমুদ্রে নামার সময় আগুনের শিখা দেখা যায় এবং পরে সেটি পানিতে পড়ে একপাশে কাত হয়ে যায়। মিশনটির ক্ষেত্রে স্টারশিপ উদ্ধারের পরিকল্পনা ছিল না। 

পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছানো স্টারশিপ প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ছিল। কক্ষপথে সফল প্রবেশের মাধ্যমে স্পেসএক্স এখন স্টারশিপকে শুধু পরীক্ষামূলক মহাকাশযান হিসেবে নয়, ভবিষ্যতে নিয়মিত মহাকাশ পরিবহনের জন্য ব্যবহারের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

স্টারশিপকে ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক স্টারলিংক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পাশাপাশি চাঁদে মানুষ পাঠানোর নাসার আর্টেমিস কর্মসূচিতেও ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে মঙ্গলগ্রহে মানব অভিযানেও স্টারশিপকে গুরুত্বপূর্ণ যান হিসেবে ব্যবহার করার লক্ষ্য রয়েছে স্পেসএক্সের। 

স্টারশিপের ১৪তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন তাই শুধু আরেকটি উৎক্ষেপণ নয়; এটি মহাকাশযানটির উন্নয়নযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রথমবার কক্ষপথে পৌঁছানোর পাশাপাশি বাস্তব স্যাটেলাইট মোতায়েনের মাধ্যমে মিশনটি ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

তবে একটি সফল কক্ষপথ অভিযানই স্টারশিপের পূর্ণাঙ্গ পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও নিয়মিত অপারেশনাল ব্যবস্থা হিসেবে প্রস্তুত হওয়ার প্রমাণ নয়। ভবিষ্যৎ পরীক্ষাগুলোতে কক্ষপথে দীর্ঘসময় অবস্থান, নিরাপদ পুনঃপ্রবেশ এবং ধারাবাহিকভাবে উৎক্ষেপণ ও পুনর্ব্যবহারের সক্ষমতা আরও পরীক্ষা করতে হবে। 

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer