News Ticker
221.png

রাখাইনে মিয়ানমারের বিমান বাহিনীর অভিযানে ৫০ জন নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৪

শেয়ার

শেয়ার

রাখাইনে মিয়ানমারের বিমান বাহিনীর অভিযানে ৫০ জন নিহত
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরে একটি বাজারের কাছে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫৮ জন। মঙ্গলবার উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০-এ দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাখাইনের কিয়াউকতাও এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। এলাকাটি বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হামলার সময় স্থানীয় বাজারটি ক্রেতা, বিক্রেতা ও পথচারীতে ব্যস্ত ছিল বলে স্থানীয় উদ্ধারকর্মী ও আরাকান আর্মির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। 

আরাকান আর্মির দাবি, একটি যুদ্ধবিমান থেকে স্থানীয় বাজারের কাছে দুটি বোমা ফেলা হয়। হামলার পর বাজারের বিভিন্ন স্থাপনা ও আশপাশের ভবনে আগুন ধরে যায়। বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি সেতুর অংশও ধ্বংস হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় উদ্ধারকারী কর্মকর্তা ওয়াই হুন অং রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। তিনি এর আগে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছিলেন, কিয়াউকতাওয়ের ওই বাজারটি রাখাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র, যেখানে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আসেন। 

আহত ৫৮ জনের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা গুরুতর বলে আরাকান আর্মি ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের উদ্ধৃত করে এপি জানিয়েছে।

কিয়াউকতাও উত্তর রাখাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। এটি বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে রাখাইনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে আরাকান আর্মি। এরপর রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এপি জানিয়েছে, রাখাইনের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কিয়াউকতাওয়ের হামলার বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। অতীতে সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের বিমান হামলার লক্ষ্য থাকে বৈধ সামরিক স্থাপনা এবং বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তারা সতর্কতা অবলম্বন করে। 

অন্যদিকে আরাকান আর্মি অভিযোগ করেছে, ঘনবসতিপূর্ণ বাজার ও বেসামরিক মানুষের এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সংগঠনটি হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশজুড়ে সংঘাত চলছে। রাখাইনও এই সংঘাতের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের কারণে রাজ্যটিতে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রাখাইনে সংঘাতের কারণে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে নতুন করে বিমান হামলা ও সহিংসতা সাধারণ মানুষের জন্য মানবিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। 

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রাখাইনের ম্রাউক-উ টাউনশিপের একটি হাসপাতালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

 

ChannelNRB Footer