শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ও দীর্ঘ ক্লাস সূচিসহ বিভিন্ন দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও স্কুল অবরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। মঙ্গলবারের বিক্ষোভে দেশটির প্রায় ৪০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ অন্তত ৪৪০ জনকে আটক করেছে, যাদের বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
ফরাসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে মঙ্গলবার প্রায় ৪০০টিতে বিক্ষোভ বা শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি স্কুল পুরোপুরি অবরুদ্ধ ছিল এবং আরও কয়েক ডজন স্কুলে অবরোধের চেষ্টা করা হয়।
গত সপ্তাহে প্যারিস ও এর আশপাশের অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত দেশের অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও কর্মীর অভাব, দীর্ঘ ও চাপপূর্ণ ক্লাস সূচি এবং অনেক স্কুলের অবকাঠামোগত সমস্যা। সাম্প্রতিক তীব্র গরমের সময় শ্রেণিকক্ষ অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে পড়ার বিষয়টিও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০-এর বেশি। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় স্কুলে অবস্থান ও পড়াশোনার চাপ নিয়েও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
বেশির ভাগ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলেও কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। লিল, লিয়ন, বোর্দো, রেন, নঁত ও মার্সেইসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
লিলে কিছু শিক্ষার্থী আবর্জনার পাত্রে আগুন দেয় এবং পুলিশের দিকে বোতল, পাথরসহ বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিছু ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ক্ষতিকর তরলও নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে মোট অন্তত ৭৬ জন শিক্ষার্থী ও স্কুলকর্মী আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে; পুলিশের পক্ষ থেকেও আহত হওয়ার খবর এসেছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটকের একটি বড় অংশ পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছে।
এর আগের দিন সোমবারও দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় ১৬৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে আটক ব্যক্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পাশাপাশি মঙ্গলবার ফ্রান্সজুড়ে সরকারি খাতের কর্মীদের ধর্মঘটও পালিত হয়েছে। শিক্ষক, দমকলকর্মীসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মী বেতন ও সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত সরকারের পরিকল্পনার প্রতিবাদে কর্মসূচিতে অংশ নেন। ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বৃহত্তর জাতীয় ধর্মঘটের সঙ্গে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সরকার ২০২৭ সালের বাজেট ঘিরে ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত কিছু সমস্যার অস্তিত্ব স্বীকার করা হলেও বিক্ষোভে সহিংসতার সমালোচনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়ে কথা বলার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি স্কুলের আশপাশে আগুন ও সহিংসতার নিন্দা করেছেন।
আরও পড়ুন:







