ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারীকে প্রধানমন্ত্রী পেল উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ফাতিমা এজ্জাহরা এল মনসুরিকে নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
৫০ বছর বয়সী ফাতিমা এজ্জাহরা এল মনসুরি পেশায় একজন আইনজীবী। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি মরক্কোর জাতীয় ভূখণ্ড পরিকল্পনা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আবাসন ও নগরনীতি বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর মারাকেশের মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ফাতিমা মনসুরির নিয়োগের পেছনে রয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনে তার দল অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (PAM) ৩৯৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে ৯৭টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বেশি আসন অর্জন করে। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় নতুন সরকার গঠনে তাকে জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া রাজনৈতিক দলের মধ্য থেকে রাজা সরকারপ্রধান নিয়োগ করেন। ২০১১ সালের সাংবিধানিক সংস্কারের পর এই নিয়ম চালু হয়।
ফাতিমা মনসুরির নিয়োগ শুধু মরক্কোর জন্য নয়, আরব বিশ্বের রাজনীতিতেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তিনি আরব বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী হওয়া দ্বিতীয় নারী। এর আগে ২০২১ সালে তিউনিসিয়ার নাজলা বৌদেন আরব বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে রয়েছে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে মরক্কো ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হওয়ায় বড় ধরনের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বও নতুন সরকারের ওপর থাকবে।
নতুন সরকারকে তরুণদের কর্মসংস্থান ও মজুরি বৃদ্ধির মতো বিষয়েও কাজ করতে হবে। নির্বাচনের পর এখন মূল নজর জোট সরকার গঠনের আলোচনা এবং মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করার দিকে।
ফাতিমা এজ্জাহরা এল মনসুরি ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত PAM-এ যোগ দেন। তিনি দুই দফায় মারাকেশের মেয়র ছিলেন এবং পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের একজন হিসেবে উঠে আসেন।
আরও পড়ুন:







