যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় নারীসহ অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৮ জন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গাজার বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাসূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের একটি চিকিৎসাসূত্র জানায়, আল-ওয়াহদা স্ট্রিটে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক ফিলিস্তিনি নারী নিহত হন। ওই হামলায় তার স্বামী গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ইসরায়েলি সামরিক হেলিকপ্টার থেকে বাড়িটিতে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পর গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেলার সংযুক্ত ট্যাক্সিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। চিকিৎসাসূত্রের বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, ওই হামলায় পাঁচজন নিহত এবং অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত ও আহতদের আল-শিফা ও আল-কুদস হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এর আগে গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলের শুজাইয়া এলাকায় দুটি পরিত্যক্ত বাড়িতে বিমান হামলায় তিন ফিলিস্তিনি আহত হন। আহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। একই সময়ে শুজাইয়া ও জেইতুন এলাকার পূর্বাংশে ইসরায়েলি কামান হামলা এবং ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্ব পাশে একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে বোমা ফেলার পাশাপাশি সামরিক যান থেকে ফিলিস্তিনি বাড়িঘরের দিকে ভারী গুলিবর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ওই ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের দক্ষিণাঞ্চলের কিজান আবু রাশওয়ান এলাকাতেও গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। চিকিৎসাসূত্র জানিয়েছে, সেখানে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক ফিলিস্তিনি নারী পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।
এদিকে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় ছয়জন নিহত এবং ১০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪৩১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজার ২৬ জন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আরও পড়ুন:







