ইরান দাবি করেছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলেও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও উৎক্ষেপণের সক্ষমতা এমন পর্যায়ে রয়েছে যে প্রয়োজন হলে বছরের পর বছর ধরে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারবে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা বালালি এ দাবি করেন।
বালালির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও উৎক্ষেপণের বর্তমান সক্ষমতা এমন যে সংঘাত আরও কয়েক বছর অব্যাহত থাকলেও একই মাত্রার অভিযান চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে এটি ইরানি কর্মকর্তার একটি দাবি; স্বাধীনভাবে যাচাই করা বর্তমান উৎপাদনহার বা মজুতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে নেই।
ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিকবার দাবি করেছেন যে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন যুদ্ধের সময়ও বন্ধ হয়নি। আগস্টে আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি বলেছিলেন, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের হার উৎক্ষেপণের হারের চেয়ে বেশি এবং উৎপাদন অব্যাহত থাকায় মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।
এ ছাড়া আগস্টে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। আইআরজিসির মুখপাত্রও জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো হয়েছিল। তবে ইরান তার বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র মজুত বা উৎপাদন সক্ষমতার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক হামলা হলেও দেশটির সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জুনের বিশ্লেষণে বলা হয়, হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও উৎপাদন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির হাতে উল্লেখযোগ্য অবশিষ্ট সক্ষমতা রয়েছে এবং পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অবকাঠামোর কিছু অংশ টিকে আছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনব্যবস্থা ছিল তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত ও ছড়িয়ে থাকা। ভূগর্ভস্থ স্থাপনা, মোবাইল লঞ্চার এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য শিল্প অবকাঠামো দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির স্থিতিস্থাপকতা বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে প্রকাশ্য তথ্যের বড় অংশই বিভিন্ন পক্ষের দাবি বা গোয়েন্দা মূল্যায়নের ওপর নির্ভরশীল। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট বলেছে, ২০২৬ সালের হামলার পর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কিছু টিকে থাকা ও বিকল্প স্থাপনায় পুনরায় শুরু হওয়ার মূল্যায়ন থাকলেও বর্তমান উৎপাদনহারের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য হিসাব নেই।
অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরের এক বিশ্লেষণে ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোর অভিজ্ঞতার পর তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে পারে।
ইরানের এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো—দেশটি শুধু বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের ওপর নির্ভর করছে না, বরং উৎপাদন অব্যাহত রাখার সক্ষমতাকেও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কৌশলের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, উৎপাদন অবকাঠামো, লঞ্চার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা—সবগুলো বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন:







