News Ticker
221.png

সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩৪

শেয়ার

শেয়ার

সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
ছবি: সংগৃহীত

দুই দশকেরও বেশি সময়ের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার ইরাকে থাকা মার্কিন বাহিনীর শেষ সদস্যরা দেশটির উত্তরাঞ্চলের এরবিল ঘাঁটি ছেড়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে ইসলামিক স্টেট (আইএস/আইএসআইএস)বিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক মিশনের সমাপ্তি ঘটল।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই প্রত্যাহার ‘যুদ্ধকালীন জোটভিত্তিক মিশন’ থেকে ইরাকের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি পরিবর্তনকে নির্দেশ করছে। ইরাকের নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব এখন দেশটির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর থাকবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং সীমিত পরিসরে প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। 

ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বর্তমান অধ্যায়ের শুরু ২০০৩ সালে। সে সময় সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ২০১১ সালে মার্কিন সেনারা ইরাক থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু ২০১৪ সালে আইএস ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেওয়ার পর মার্কিন বাহিনী আবার দেশটিতে ফিরে আসে।

পরবর্তী সময়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করে আইএসের দখল করা অঞ্চল পুনরুদ্ধার করে। ২০১৯ সালে আইএস তার ঘোষিত ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ হারালেও সংগঠনটির সম্ভাব্য পুনরুত্থান ঠেকাতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত ছিল।

ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ সালে দেশটিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আইএসবিরোধী সামরিক মিশন ধীরে ধীরে শেষ করার বিষয়ে সমঝোতা করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সাল থেকেই ইরাকের বিভিন্ন এলাকা থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়। সর্বশেষ উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে সীমিত মার্কিন উপস্থিতি বজায় ছিল। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো প্রত্যাহারের লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল। 

প্রত্যাহারের শেষ পর্যায়ে এরবিল ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা ও সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরাক থেকে সরিয়ে নেওয়া কিছু বাহিনী ও সক্ষমতা এখন জর্ডানে অবস্থান করবে। সেখান থেকে সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযান পরিচালনার কাঠামো বজায় থাকবে। প্রয়োজন হলে ইরাকের বাইরে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতাও ধরে রাখবে।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে ইরাকি সরকার এটিকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ আশঙ্কা করছেন, মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক সহায়তা কমে যাওয়ায় আইএসের অবশিষ্ট সদস্যরা পুনর্গঠনের সুযোগ পেতে পারে।

ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি ইরান-ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন গোষ্ঠীর ওপর একটি সামরিক ভারসাম্য তৈরি করেছিল বলে কিছু বিশ্লেষকের মত। মার্কিন প্রত্যাহারের পর ইরাকের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এসব গোষ্ঠীর প্রভাব কতটা বাড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। 

মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে বাগদাদে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ পালনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ইরাকি সরকারের কাছে এই সময়টি দীর্ঘ বিদেশি সামরিক উপস্থিতির অবসান এবং দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদের হাতে নেওয়ার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ChannelNRB Footer