আফগানিস্তানের দুটি প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ২২ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। তবে হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। জাতিসংঘও হামলায় বেসামরিক হতাহতের তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আফগানিস্তানের দুটি স্থানে ‘সন্ত্রাসী আস্তানা ও ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে পরিকল্পিত ও নির্ভুল বিমান হামলা চালানো হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনের বরাতে মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এসব হামলায় ২২ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। হামলায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইসলামাবাদ আরও বলেছে, বেসামরিক হতাহত এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল। তবে ২২ জন নিহত হওয়ার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানি বিমান হামলায় কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশের বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তার দাবি, কুনারের চুগাম ও শুলতান এবং হেলমান্দের গার্মসির এলাকায় হামলায় নয়জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আরও ১১ জন আহত এবং তিনটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে তিনি জানান।
জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন (UNAMA) জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই শিশু। আরও নয়জন আহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘের তথ্য।
জাতিসংঘ সীমান্তপারের সহিংসতা কমাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমন এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো—বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)—ঘাঁটি গড়ে পাকিস্তানের ভেতরে হামলা পরিচালনা করছে। ইসলামাবাদ আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে এসব গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও করে থাকে।
তবে কাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আফগান তালেবান সরকারের বক্তব্য, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করা উচিত নয়।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)সহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আশ্রয় পাচ্ছে এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সাম্প্রতিক বিমান হামলাকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কয়েক মাসের আপেক্ষিক শান্তির পর নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে সীমান্তে গোলাগুলি ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সীমান্তবর্তী সহিংসতায় আফগানিস্তানে বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা এক হাজার ছাড়িয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, সীমান্তের সংঘাতে সাধারণ মানুষ যাতে আরও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য উভয় পক্ষের উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:







