News Ticker
221.png

পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬ ড্রোন চালিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ল চীন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৫

শেয়ার

শেয়ার

পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬ ড্রোন চালিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ল চীন
ছবি: সংগৃহীত

পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে চীন। ‘সবচেয়ে বেশি সংখ্যক স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান একই সময়ে পরিচালনা’—এই বিভাগে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেয়েছে দেশটির একটি গবেষক দল।

রেকর্ডটি করেছে চীনের নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি ও শি’আন তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের যৌথ দল। ব্যবহৃত ড্রোনগুলোর মডেল TH-618। ২৯ আগস্ট একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় ১১৬টি ড্রোনকে পানির নিচে একসঙ্গে পরিচালনা করা হয়। পরে গিনেস কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটি যাচাই করে রেকর্ডটির স্বীকৃতি দেয়। 

পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয় ৫০ মিটার দীর্ঘ ও ২০ মিটার প্রশস্ত একটি সুইমিং পুলে। ড্রোনগুলো একে একে পানিতে নামানোর পর সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার হাতে দেওয়া হয়।

এরপর কোনো মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ১১৬টি ড্রোন নির্ধারিত পথে দলবদ্ধভাবে পানির নিচে চলাচল করে। প্রায় ৩৪ মিনিটের পরীক্ষায় তারা ৫০০ মিটারের বেশি পথ অতিক্রম করে। 

গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনগুলো বাস্তব সময়ের তথ্য ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান ও গতিপথ সমন্বয় করে। পানির স্রোত বা অন্য কোনো কারণে নির্ধারিত পথ থেকে সামান্য সরে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গতিপথ সংশোধনের সক্ষমতাও রয়েছে এগুলোর।

পানির নিচে এতগুলো যানকে একই সঙ্গে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা প্রযুক্তিগতভাবে বেশ কঠিন। কারণ পানির নিচে সাধারণ বেতার যোগাযোগ ও স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা সীমিত বা অকার্যকর হয়ে যায়।

এই পরীক্ষায় TH-618 ড্রোনগুলো ভিজ্যুয়াল সেন্সিং ও অনবোর্ড স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সাহায্যে নিজেদের পথ নির্ধারণ ও সংশোধন করেছে। গবেষণা দলের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ড্রোনগুলো নির্ধারিত ফরমেশন বজায় রেখে পানির নিচে চলাচল করতে পারে। 

চীনা বিজ্ঞানবিষয়ক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানির নিচে কম দৃশ্যমানতা, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা এবং স্রোতের মতো পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের সমন্বিত চলাচল বড় ধরনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। 

TH-618 ড্রোনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ২০ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৫ দশমিক ১৪ কেজি। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এটি সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে এবং একটানা আট ঘণ্টার বেশি কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে।

ড্রোনগুলোতে ক্যামেরাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল নেভিগেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো পানির নিচে নির্ধারিত গভীরতা ও গতি বজায় রাখা, দিক পরিবর্তন এবং বাধা বা পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গতিপথ সংশোধন করতে পারে।

স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান বা Autonomous Underwater Vehicle (AUV) বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। সমুদ্রতল জরিপ, পানির নিচে অনুসন্ধান, সামুদ্রিক অবকাঠামো পরিদর্শন এবং সমুদ্রবিষয়ক গবেষণায় এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে।

চীনের গবেষকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বড় আকারের স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যানবহর তৈরির ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশও সামরিক ও গবেষণামূলক কাজে স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান নিয়ে কাজ করছে। ফলে চীনের এই পরীক্ষাকে শুধু একটি রেকর্ড হিসেবে নয়, পানির নিচে বহু স্বয়ংক্রিয় যানের সমন্বিত পরিচালনা প্রযুক্তির উন্নয়নের একটি প্রদর্শন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

আকাশে ড্রোনের দলবদ্ধ উড্ডয়ন ইতোমধ্যে পরিচিত হলেও পানির নিচে একই ধরনের সমন্বিত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পরিচালনা অনেক বেশি জটিল। কারণ পানির নিচে যোগাযোগ, অবস্থান নির্ণয় ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে আলাদা প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

১১৬টি TH-618 একসঙ্গে পানির নিচে ৩৪ মিনিট ধরে নির্ধারিত পথে চলতে পারায় চীনা গবেষকরা বড় আকারের স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যানবহর পরিচালনার সম্ভাবনা দেখিয়েছেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতিও এই পরীক্ষার প্রযুক্তিগত অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করেছে। 

ChannelNRB Footer