News Ticker
221.png

ইরান যুদ্ধের জেরে এবারও নোবেল শান্তি পুরস্কার থেকে ছিটকে যাচ্ছেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:২৮

আপডেট: ১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৮

শেয়ার

শেয়ার

ইরান যুদ্ধের জেরে এবারও নোবেল শান্তি পুরস্কার থেকে ছিটকে যাচ্ছেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার কারণে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ইরান যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে এবারও ট্রাম্পের হাতে নোবেল শান্তি পুরস্কার যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে নোবেল কমিটি এখনো কোনো প্রার্থীকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হবে আগামী ৯ অক্টোবর নরওয়ের অসলো থেকে। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ২৮৭ জন ও প্রতিষ্ঠান পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন রয়েছে।

তবে নোবেল কমিটি প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করে না। নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন-সংক্রান্ত নথি ও মূল্যায়ন ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ফলে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের মনোনীত প্রার্থী কি না, সেটিও কমিটি নিশ্চিত করেনি। 

চলতি বছরের শুরুতে কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তারা ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন। তবে এসব দাবি নোবেল কমিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মনোনয়ন দেওয়া আর নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করার বিষয় এক নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, সাবেক নোবেলজয়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নাম প্রস্তাব করতে পারেন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই ট্রাম্প এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাবেন না বলে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। তাদের আলোচনায় ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। পুরস্কার পাওয়ার আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে নিজের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবি জানিয়েছিলেন। পরে মাচাদো তার নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দেন। রয়টার্স এটিকে পুরস্কারটির ১২৫ বছরের ইতিহাসে অস্বাভাবিক একটি ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পক্ষে কথা বলে আসছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তিনি একাধিক সংঘাতে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নোবেল পুরস্কারের দাবি করেছিলেন। 

কিন্তু বর্তমানে ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত পরিস্থিতি সেই দাবিকে আরও বিতর্কিত করেছে। ১ অক্টোবর ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব তার কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি। প্রয়োজনে নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরানে আবারও বোমা হামলা চালানোর সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেননি।

নোবেল কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশিত হয়নি। তবে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের আলোচনায় এ বছর পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজের মতো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। এগুলো বিশেষজ্ঞদের আলোচনা; নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক তালিকা নয়। 

নোবেল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিটি বিভিন্ন প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং গবেষণামূলক উপকরণ পর্যালোচনা করে। এরপর কমিটির সদস্যরা বিজয়ী নির্বাচন করেন। 

ইরান যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা থাকলেও এখনো তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো ঘোষণা নেই। একইভাবে তিনি পুরস্কার পাবেন—এমন নিশ্চয়তাও নেই।

নরওয়ের নোবেল কমিটি আগামী ৯ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১১টায় (CEST) ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে। তাই ট্রাম্পের বিষয়ে চলমান সব আলোচনা আপাতত বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন পক্ষের দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

ChannelNRB Footer