নিউজিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ডের নাইনটি মাইল বিচে (Ninety Mile Beach) আটকা পড়ে অন্তত ১২টি পিগমি কিলার তিমির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপকূলের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় মোট ১৫টি পিগমি কিলার তিমি আটকা পড়ার পর তাদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে দেশটির সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায় ও স্বেচ্ছাসেবকেরা।
নিউজিল্যান্ডের ডিপার্টমেন্ট অব কনজারভেশন (DOC) জানায়, তিমিগুলো নর্থল্যান্ড অঞ্চলের ফার নর্থ জেলায় সৈকতের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে ছিল। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাদের আটকা পড়ার খবর পায় কর্তৃপক্ষ। এরপর দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও জোয়ার, ঢেউ ও দ্রুত নেমে আসা অন্ধকারের কারণে পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারও সমুদ্রের পরিস্থিতি কঠিন ছিল। এ কারণে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কয়েকটি তিমিকে পানিতে ফেরানোর চেষ্টা করা হলেও কতগুলো তিমি সফলভাবে গভীর পানিতে ফিরে যেতে পেরেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এদিকে মৃত তিমিগুলো সরিয়ে সমাহিত করার কাজ শুরু হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের সংরক্ষণ বিভাগের নর্দার্ন নর্থ আইল্যান্ড অপারেশনের পরিচালক জোয়েল লটারবাখ জানান, কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি বোঝার জন্য তথ্য সংগ্রহ করছে। একই সঙ্গে স্থানীয় Ngāti Kuri, Ngāi Takoto ও Te Aupōuri সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মৃত তিমিগুলোর ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক রীতিও অনুসরণ করা হচ্ছে।
পিগমি কিলার তিমির বৈজ্ঞানিক নাম Feresa attenuata। নামের মধ্যে “killer whale” থাকলেও এটি সাধারণ অরকা বা Orcinus orca নয়। পিগমি কিলার তিমি ডলফিন পরিবারের একটি পৃথক প্রজাতি এবং তুলনামূলকভাবে বিরল সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী। আটকা পড়া প্রাণীগুলোর দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ প্রায় ২ দশমিক ৬ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের ডিপার্টমেন্ট অব কনজারভেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃত killer whale বা orca হলো ডলফিন পরিবারের সবচেয়ে বড় সদস্য এবং এটি Orcinus orca প্রজাতির প্রাণী। ফলে বর্তমান ঘটনাকে সাধারণ অরকা আটকা পড়ার ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
নাইনটি মাইল বিচে এর আগেও পিগমি কিলার তিমি আটকা পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালে একই সৈকতে প্রায় এক ডজন পিগমি কিলার তিমি আটকা পড়েছিল। তখন আটটি তিমিকে সৈকত থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত শান্ত পানিতে নেওয়া হয়েছিল। তবে পানিতে ফেরানোর পর শেষ পর্যন্ত মাত্র একটি তিমি বেঁচে ছিল।
বর্তমান ঘটনাতেও উদ্ধারকারীদের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তাল সমুদ্র, জোয়ার ও সৈকতের পরিস্থিতি। কয়েক কিলোমিটার এলাকায় তিমিগুলো ছড়িয়ে থাকায় সমন্বিত উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর সৈকতে আটকা পড়ার নির্দিষ্ট কারণ সবসময় সহজে শনাক্ত করা যায় না। নিউজিল্যান্ডের DOC বলছে, এ ধরনের ঘটনায় একাধিক কারণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি পুরোপুরি বোঝা যায় না।
দেশটির উপকূলকে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর আটকা পড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। DOC-এর হিসাবে, ১৮৪০ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের উপকূলে তিমি ও ডলফিন আটকা পড়ার ৫ হাজারের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সাধারণত এসব ঘটনায় এক বা দুটি প্রাণী জড়িত থাকলেও কখনো কখনো একসঙ্গে অনেক প্রাণী আটকা পড়ে।
বর্তমান ঘটনায় ১৫টি পিগমি কিলার তিমি কেন একই সময়ে সৈকতে উঠে এল এবং তাদের মৃত্যুর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ রয়েছে কি না—তা এখনো নিশ্চিত করেনি নিউজিল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো জীবিত তিমিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মৃত প্রাণীগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা করা। একই সঙ্গে স্থানীয় iwi বা মাওরি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সাংস্কৃতিক রীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:







