News Ticker
221.png

কঙ্গোতে ইবোলা মহামারিতে ৪ হাজারের বেশি মৃত্যু, নিয়ন্ত্রণে হিমশিম কর্তৃপক্ষ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৭

শেয়ার

শেয়ার

কঙ্গোতে ইবোলা মহামারিতে ৪ হাজারের বেশি মৃত্যু, নিয়ন্ত্রণে হিমশিম কর্তৃপক্ষ
ছবি: সংগৃহীত

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে, এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩০০ জনে। আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকের মৃত্যু হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

চলমান এই প্রাদুর্ভাবটি ডিআর কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছে। ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবকে ছাড়িয়ে এটি এখন দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা সংকট। মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে ২০১৪-২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা মহামারির পর এটিই সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব। ওই মহামারিতে গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ২৮ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন।

এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্দিবুগিও (Bundibugyo) প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস। ডিআর কঙ্গো সরকার ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, এই প্রজাতির বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে সম্ভাব্য টিকা ও চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। 

আগস্টের তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় সংক্রমণের গতি কমার লক্ষণ দেখা গেলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ইবোলা ইতোমধ্যে ডিআর কঙ্গোর সাতটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ দক্ষিণ উবাঙ্গি প্রদেশে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় দেশের নতুন অঞ্চলেও ভাইরাসটির বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

WHO-এর ২৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোতে ৭ হাজার ৮৯০টি নিশ্চিত সংক্রমণ ও ৩ হাজার ৭৯৯টি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে।

ইবোলা মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তাহীনতা। দেশটির পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত ও সহিংসতার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা মেডিসিনস সঁ ফ্রঁতিয়ের (MSF) জানিয়েছে, এই সংকটে মানবিক মূল্য নজিরবিহীন। ইতোমধ্যে অন্তত ৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মী ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কিছু স্বাস্থ্যকর্মী বেতন না পাওয়ার অভিযোগে কর্মসূচি ও ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন। এতে রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম আরও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

স্থানীয় জনগণের একটি অংশের মধ্যে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি অবিশ্বাসও ইবোলা নিয়ন্ত্রণে বড় সমস্যা তৈরি করছে। গুজব, ভুল তথ্য এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক-রাজনৈতিক সংকটের কারণে অনেক এলাকায় আক্রান্তদের শনাক্ত করা ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অনুসরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সম্প্রতি ইবোলা আক্রান্তদের চিকিৎসা ও নজরদারির সঙ্গে যুক্ত একটি কেন্দ্র আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এসব ঘটনার ফলে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

WHO বলছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগী শনাক্ত করা, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের অনুসরণ, পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো, চিকিৎসাকেন্দ্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। 

কঙ্গোর কিছু এলাকায় মোবাইল ল্যাবরেটরিও ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা যায়। তবে সংঘাতপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। 

সরকারি হিসাবে ৮ হাজার ৩০০ আক্রান্তের মধ্যে ২ হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে নতুন নতুন এলাকায় সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে—এমন কোনো লক্ষণ এখনো নেই। 

ChannelNRB Footer