News Ticker
221.png

ইয়েমেনে ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে: আইওএম

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩১

শেয়ার

শেয়ার

ইয়েমেনে ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে: আইওএম
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট ও মানবিক সহায়তার ঘাটতির কারণে ইয়েমেনে শিশুদের অপুষ্টি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটিতে পাঁচ বছরের কম বয়সী ২২ লাখের বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টিতে (acute malnutrition) ভুগতে পারে। এর মধ্যে ৫ লাখের বেশি শিশু severe acute malnutrition-এর মতো প্রাণঘাতী অবস্থার মুখে রয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) শুক্রবার জানিয়েছে, ইয়েমেনে খাদ্যনিরাপত্তা দ্রুত অবনতি হচ্ছে। দেশজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে। নতুন করে সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতি বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাত তীব্র হওয়ায় হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। IOM-এর তথ্য অনুযায়ী, জুন থেকে সংঘাতের কারণে ১ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অনেকেই এর আগেও যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত জীবন কাটাচ্ছিলেন। 

বিশেষ করে তাইজসহ দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পরিস্থিতি গুরুতর। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য শিশুদের পর্যাপ্ত খাবার জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ শিশুকে মোবাইল পুষ্টি দলের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে। নিরাপদে যেসব এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে, সেখানে পরীক্ষা করা শিশুদের চারজনের মধ্যে একজনের বেশি তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত পাওয়া গেছে। ২০০-র বেশি শিশুর অবস্থা ছিল severe acute malnutrition-এর পর্যায়ে।

WFP-এর হিসাবে, ইয়েমেনে বর্তমানে ১৮.৩ মিলিয়ন মানুষ acute food insecurity-এর মুখোমুখি। একই সঙ্গে নতুন করে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর খাদ্য চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সংস্থাটির সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে, সেখানকার ৭৪ শতাংশ পরিবার তাদের মৌলিক খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। চলতি বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ হার।

খাদ্য আমদানিনির্ভর ইয়েমেনে যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে। দেশটি তার মোট খাদ্য চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে বন্দর, সড়ক ও বাণিজ্যপথে অস্থিরতা দেখা দিলে সরাসরি বাজার ও খাদ্যের দামে প্রভাব পড়ে। 

দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আগে থেকেই দুর্বল। জাতিসংঘের ২০২৬ সালের মানবিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাত্র প্রায় ৫৯ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। ফলে অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুষ্টি পুনর্বাসন সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, খাদ্যসংকটের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি চিকিৎসায় প্রবেশাধিকারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংঘাতের কারণে পরিবারগুলো বারবার স্থান পরিবর্তন করায় শিশুদের নিয়মিত চিকিৎসা ও পুষ্টি সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে উঠছে।

ইউনিসেফের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন সপ্তাহে ইয়েমেনে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের মধ্যে আনুমানিক ৭১ হাজার শিশু। সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ গভর্নরেট থেকে।

বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে খাদ্যসংকটের সম্পর্কও সরাসরি। বাড়িঘর ও জীবিকার উৎস হারানো পরিবারগুলোর আয় কমে যায়, বাজারে খাদ্যের দাম বাড়ে এবং নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টিকর খাবারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে শিশুদের ওপর।

WFP জানিয়েছে, নতুন করে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তা বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে সংস্থাটি ১৫ লাখ পর্যন্ত মানুষকে জরুরি সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। তবে ত্রাণের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে এবং অর্থের ঘাটতি থাকলে সহায়তা কার্যক্রমে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে খাদ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংঘাতপ্রবণ এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করাকে জরুরি বলে মনে করছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো।

ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সঙ্গে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি যুক্ত হওয়ায় শিশুদের অপুষ্টি পরিস্থিতি আরও অবনতির ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বলছে, জরুরি খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি শিশু ও বেসামরিক মানুষের জন্য নিরাপদ মানবিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

ChannelNRB Footer