ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের রাতে মাশহাদে ইমাম রেজা মাজারে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন তাঁর শাশুড়ি তাইয়্যেবা মাহরুজাদেহ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ওই সময় মোজতবা খামেনিকে তিনি সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখেছেন।
মাহরুজাদেহ—যিনি ইরানের রাজনীতিক গোলাম-আলী হাদ্দাদ-আদেলের স্ত্রী এবং মোজতবা খামেনির প্রয়াত স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেলের মা—সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, আলী খামেনির দাফনের রাতেই তিনি মোজতবাকে দেখেছেন এবং তখন তিনি ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ ছিলেন। ইরানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও তাঁর বক্তব্য প্রকাশ করেছে।
আলী খামেনিকে ২০২৬ সালের ১০ জুলাই ভোরের আগে মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে শোক ও শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা চলেছিল।
তবে দাফন ও শেষকৃত্যের প্রকাশ্য ভিডিও ফুটেজে মোজতবা খামেনিকে দেখা যায়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল, তাঁর বাবা ও পূর্বসূরির দাফনের সময় তিনি জনসমক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর বড় ভাই মোস্তফা খামেনি জানাজায় নেতৃত্ব দেন।
এই অনুপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ছিল—মোজতবা আদৌ দাফনস্থলে গিয়েছিলেন কি না।
তাইয়্যেবা মাহরুজাদেহের বক্তব্য সেই প্রশ্নে নতুন একটি দাবি সামনে আনল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা না গেলেও মোজতবা ব্যক্তিগতভাবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
মাহরুজাদেহের বক্তব্যের আগে গত সেপ্টেম্বরে ইরানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ধর্মীয় বক্তা আব্বাস হায়দারজাদেহও একই ধরনের দাবি করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মোজতবা খামেনি রাতের দিকে ইমাম রেজা মাজারে পৌঁছান এবং ভোর পর্যন্ত সেখানে ছিলেন।
হায়দারজাদেহ আরও দাবি করেছিলেন, মাজারের তত্ত্বাবধায়ক আহমাদ মারভি তাঁকে মোজতবার উপস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। তবে ওই দাবির সমর্থনে তখনও মোজতবার কোনো সাম্প্রতিক ছবি, ভিডিও বা অডিও প্রকাশ করা হয়নি।
আলী খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা গেছে। তাঁর নামে বিবৃতি ও সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলেও তাঁর সাম্প্রতিক ছবি বা ভিডিও জনসমক্ষে আসেনি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে, তিনি সুস্থ আছেন এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তাঁর শাশুড়ির সাম্প্রতিক বক্তব্যও মূলত এই দাবিরই সমর্থন করে।
তবে মাহরুজাদেহের বক্তব্যের সঙ্গে মোজতবা খামেনির উপস্থিতির কোনো নতুন ছবি, ভিডিও বা অডিও প্রকাশিত হয়নি। ফলে তিনি দাফনের রাতে মাশহাদে ছিলেন—এটি আপাতত একজন ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যের প্রত্যক্ষ দাবি।
আরও পড়ুন:







