News Ticker
221.png

মদিনায় মসজিদে নববীর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫৪

শেয়ার

শেয়ার

মদিনায় মসজিদে নববীর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ওই হামলা চালিয়েছে। তবে অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে হুথিরা। 

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোর ৫টা ১১ মিনিটে মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে একটি ড্রোন আঘাত হানে। কেন্দ্রটি মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। 

জোটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে যায়। তবে এতে মদিনার সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়নি এবং মসজিদে নববীতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে সৌদি পক্ষ। 

জোটের দাবি, হামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন, অভিযান-পরবর্তী তথ্য পর্যালোচনা এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে তারা হুথিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে। তাদের ভাষ্য, হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে হুথিরাই জড়িত ছিল।

হুথি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবার মাধ্যমে সংগঠনটির একটি সামরিক সূত্র সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, মদিনায় হামলার অভিযোগটি সৌদি পক্ষের আগের দাবিগুলোকে সমর্থন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। 

এর আগে সেপ্টেম্বরেও মক্কার দিকে হুথিদের একটি ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ করেছিল সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ড্রোনটি মক্কার সংরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। হুথিরাও সে সময় মক্কার পবিত্র স্থান লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। 

মদিনার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মসজিদে নববীর বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সৌদি জোটের দাবি, পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে হুথিদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে হুথিরা পবিত্র স্থান লক্ষ্য করার অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

ঘটনার পর বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও আন্তর্জাতিক ইসলামি প্রতিষ্ঠান উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইন সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। 

তুরস্ক ও কাতারও হামলার অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছে। কাতার ঘটনাটিকে পবিত্র ইসলামি স্থানগুলোর মর্যাদার জন্য গুরুতর হুমকি এবং সৌদি সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, মসজিদে নববীসহ পবিত্র স্থান ও সেখানে অবস্থানরত মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

ChannelNRB Footer