News Ticker
221.png

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, আটক অন্তত ৭০০

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০০

আপডেট: ২ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১২

শেয়ার

শেয়ার

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, আটক অন্তত ৭০০
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে ৭০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে আরও স্বচ্ছতা দাবি করেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

দিল্লি পুলিশের অভিযানে আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা ও সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, দিল্লি এএপির প্রধান সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা ও রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিংসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা আটক হন। সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, এআইএসএ সভাপতি নেহা বোরা এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যদেরও আটক করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিক্ষোভের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর আগে নিউ দিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছিল। এর আওতায় নির্দিষ্ট সীমার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল ও বিক্ষোভের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

শুক্রবার সকালে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক স্থান থেকে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। ভারতীয় ছাত্র ফেডারেশন (SFI), অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA), ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (NSUI) এবং যুব সংগঠনের কর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পুলিশ জানায়, একসঙ্গে ১০ জন বা তার বেশি মানুষ জড়ো হলে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের দিল্লির বিভিন্ন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। দিনের প্রথম দিকে পুলিশ প্রায় ৫০০ জন আটকের কথা জানালেও পরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে মোট আটকের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে বলে জানানো হয়। 

বিক্ষোভের কারণে মধ্য দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। যন্তর মন্তর, জনপথ, রাজীব চৌক ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

নিরাপত্তাজনিত কারণে মধ্য দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা তাদের সাংবিধানিক অধিকার এবং বিক্ষোভের অনুমতির জন্য আগেই আবেদন করা হয়েছিল। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, নির্ধারিত কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। 

SIR প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

এদিকে একই দাবিতে ভারতের মুম্বাইসহ আরও কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

ChannelNRB Footer