নেপালের হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ তুষারধসে ১৫ জন পর্বতারোহণ সহকারী ও কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আরও একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির মানাং জেলার ৭ হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্পে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সময় গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে বেস ক্যাম্পে তুষারধস আঘাত হানে। তখন সেখানে নেপালি কর্মীরা আসন্ন শরৎ মৌসুমের পর্বতারোহণ অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁবু স্থাপন, দড়ি বসানোসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন তারা। বিদেশি পর্বতারোহীরা তখনও বেস ক্যাম্পে পৌঁছাননি।
তুষারধসের পর মোট ১৬ জন কর্মী ও পর্বতারোহণ সহকারী নিখোঁজ হন। নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইড অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি শুরু করে।
বৃহস্পতিবার উদ্ধারকারীরা তুষারের নিচ থেকে আরও আটটি মরদেহ উদ্ধার করেন। এর আগে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা ১৫-তে পৌঁছায়। একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধারকারীদের নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশ ও অব্যাহত ঝুঁকির কারণে উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূল হলে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে আবার অভিযান চালানো হতে পারে।
তুষারধসের পর বেস ক্যাম্পের তাঁবুগুলো কয়েক মিটার পুরু তুষারের নিচে চাপা পড়ে যায়। উদ্ধারকারীদের তুষার খুঁড়ে এবং বিভিন্ন জায়গায় পথ তৈরি করে মরদেহ বের করতে হয়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তোলে। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ভালো আবহাওয়ার স্বল্প সময় কাজে লাগিয়ে তল্লাশি চালান।
উদ্ধার হওয়া ১৫ জনই নেপালের নাগরিক। তারা বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য বেস ক্যাম্প প্রস্তুত করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতি বছর নেপালের পর্বতারোহণ খাতে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় গাইড, পোর্টার, রান্নাঘরের কর্মী ও অন্যান্য সহায়ক কর্মী কাজ করেন।
হিমলুং হিমাল নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় মানাং জেলায় অবস্থিত। এর উচ্চতা ৭ হাজার ১২৬ মিটার। ৭ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার এই পর্বতটি পর্বতারোহীদের কাছে পরিচিত একটি গন্তব্য।
শরৎ মৌসুমে নেপালের বিভিন্ন উচ্চ পর্বতে বিদেশি পর্বতারোহীদের অভিযান শুরু হয়। তাদের অভিযানের আগে স্থানীয় সহায়ক কর্মীরা বেস ক্যাম্প তৈরি, রুট প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ করেন। এবারও সেই প্রস্তুতির সময়ই হিমলুংয়ে তুষারধসের ঘটনা ঘটে।
তুষারধসের সময় বিদেশি পর্বতারোহীরা হিমলুংয়ের বেস ক্যাম্পে পৌঁছাননি। ফলে দুর্ঘটনায় হতাহতরা সবাই স্থানীয় নেপালি কর্মী ও পর্বতারোহণ সহায়ক দলের সদস্য।
নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইড অ্যাসোসিয়েশনের উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ১৫টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা মরদেহগুলোর কয়েকটি হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে এবং পরিচয় শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
হিমলুংয়ের এই তুষারধসকে নেপালের চলতি শরৎকালীন পর্বতারোহণ মৌসুমের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। দুর্ঘটনাটি আবারও হিমালয়ে পর্বতারোহণ ও সংশ্লিষ্ট সহায়ক কর্মীদের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে।
উদ্ধার অভিযান আপাতত স্থগিত থাকলেও নিখোঁজ একজনকে উদ্ধারের চেষ্টা পরিস্থিতি অনুকূল হলে পুনরায় শুরু হতে পারে। কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকারী দলের জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো পাহাড়ের প্রতিকূল আবহাওয়া এবং নতুন তুষারধসের ঝুঁকি এড়িয়ে অভিযান পরিচালনা করা।
আরও পড়ুন:







