ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। সম্ভাব্য এই অভিযানের লক্ষ্য হতে পারে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনর্দখল এবং হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা ঠেকানো। তবে এখনো অভিযান শুরুর চূড়ান্ত সময় নির্ধারিত হয়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরব ইয়েমেনের বিভিন্ন সরকারপন্থী বাহিনীর মাধ্যমে স্থল অভিযান পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এর সঙ্গে সৌদি বিমান হামলা যুক্ত হতে পারে। পরিস্থিতি ও অভিযানের পরিধির ওপর নির্ভর করে ১ লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা ও যোদ্ধাকে মোতায়েন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অগ্রসর হয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে আসা অঞ্চলগুলোর মধ্যে বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আশপাশের এলাকা রয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচল করে। ফলে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরব ও তার মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাও বেড়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে।
১ অক্টোবর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অভিযোগ করে, মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হুতিদের হামলায় একটি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই স্থাপনা মসজিদে নববীর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। তবে হুতিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এর আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবরও পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর পাল্টা বিমান হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।
এখানে বিষয়টি পরিষ্কার করা জরুরি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ১ লাখের বেশি সেনা বলা হলেও তারা মূলত ইয়েমেনের সরকারপন্থী ও হুতিবিরোধী বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য স্থল অভিযান ইয়েমেনি বাহিনীর নেতৃত্বে হতে পারে এবং সৌদি আরব বিমান সহায়তা দিতে পারে।
সৌদি অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধের অংশ নেবে কি না, সেটিও এখনো পরিষ্কার নয়। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে। তবে মার্কিন বাহিনী সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনায় অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পাকিস্তানি সেনা ও সামরিক সহায়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। Reuters-কে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন প্রতিহত করার কাজে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে; তবে ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধ করার জন্য পাকিস্তান সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য নেই।
ফ্রান্সও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ইয়ানবু রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে বলে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেনে নতুন করে বড় আকারের স্থল অভিযান শুরু হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং সংঘাত আরও বাড়তে না দেওয়ার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:







