টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকা। দেশটির চারটি অঞ্চলে বন্যা ছড়িয়ে পড়েছে এবং সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মধ্যাঞ্চল বা সেন্ট্রাল প্লেইনস।
সরকারি মুখপাত্র এক্কাপব পিয়ানপিসেসের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানি প্রায় ২,৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত করেছে। এর মধ্যে মধ্যাঞ্চলে প্রায় ২,২০৮ বর্গকিলোমিটার, পূর্বাঞ্চলে ২৮৪ বর্গকিলোমিটার, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২৩৬ বর্গকিলোমিটার এবং পশ্চিমাঞ্চলের কাঞ্চনাবুরি প্রদেশে প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা পানির নিচে রয়েছে।
রাজধানী ব্যাংককের বিভিন্ন নিচু এলাকায় এখনো বন্যার পানি জমে আছে। ৫০টি জেলার মধ্যে একাধিক এলাকায় বাসাবাড়ি, সড়ক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে পানি অপসারণে মোবাইল পাম্প ও নৌযান ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যাংককের বান খাপি এলাকায় পানি কমাতে পাম্প বসানো হয়েছে। কিছু এলাকায় পানি প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত কমেছে। তবে ১৫টি জেলার শত শত কমিউনিটিতে তখনো জলাবদ্ধতা অব্যাহত ছিল বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি হাসপাতালেও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। প্রাচিন বুরি প্রদেশের চাও ফায়া আবাইভুবেজর হাসপাতালসহ রায়ংয়ের দুটি হাসপাতাল আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু থাকলেও গুরুতর রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চলের কাঞ্চনাবুরি প্রদেশে শ্রীনাকারিন ও ভাজিরালংকর্ন বাঁধ থেকে পানি ছাড়ার কার্যক্রমও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পানি ছাড়ার ফলে কাঞ্চনাবুরি, রাতচাবুরি ও সামুত সংখরাম এলাকায় মেই ক্লং নদীর পানি প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এদিকে থাইল্যান্ডের আবহাওয়া বিভাগ ৪ থেকে ৭ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন অংশে বজ্রবৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। বিশেষ করে ৫ ও ৬ অক্টোবর উত্তর, মধ্যাঞ্চল, ব্যাংকক ও আশপাশের এলাকা, পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বন্যায় থাইল্যান্ডের কৃষিখাতও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ২ অক্টোবর পর্যন্ত ৪২টি প্রদেশে ১৬ লাখ ৪০ হাজার রাইয়ের বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ধানখেতের পরিমাণ ১৩ লাখ ১০ হাজার রাইয়ের বেশি। একই সময়ে ৩৯ লাখের বেশি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে বা নিখোঁজ হয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:







