News Ticker
221.png

এআই চালিত নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪২

শেয়ার

শেয়ার

এআই চালিত নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি সংযুক্ত একটি নতুন মধ্যম-পাল্লার কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূল থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (JCS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় শহর ওয়নসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। এটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সাগরের দিকে গিয়ে পড়ে। জাপানও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি শনাক্ত করেছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন ও দেশটির ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা কিম ইয়ো জং বলেন, পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি মধ্যম-পাল্লার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র। তাঁর দাবি, এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি নিচু উচ্চতায় উড্ডয়নের সময় নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।

উত্তর কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী, এ ধরনের গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন করে তুলতে পারে। তবে পিয়ংইয়ংয়ের এআই-সক্ষমতা বা ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে স্বাধীন কোনো যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি। 

কিম ইয়ো জংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নিজে এই পরীক্ষামূলক মহড়াটি তদারকি করেন। তিনি ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষাকে কৌশলগত অস্ত্রের মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে এআই ব্যবহারের ধারণা সামরিক প্রযুক্তিতে নতুন নয়। এআই লক্ষ্য শনাক্তকরণ, তথ্য বিশ্লেষণ, নেভিগেশন ও অস্ত্র পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রে ঠিক কী ধরনের এআই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। 

নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এমন এক সময়ে হলো, যখন উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। সম্প্রতি অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা DMZ-এ মাইন বিস্ফোরণে তিন দক্ষিণ কোরীয় সেনা আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ওই বিস্ফোরণের জন্য উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনকে দায়ী করে ক্ষমা চেয়েছে। পিয়ংইয়ং অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এর পরপরই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পরিস্থিতিতে আরও উত্তেজনা তৈরি করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর উত্তর কোরিয়া এরই মধ্যে ১০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে কিছু পরীক্ষাকে নতুন অস্ত্রব্যবস্থা ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তি যাচাইয়ের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে পিয়ংইয়ং। মে মাসেও উত্তর কোরিয়া এআই-নির্দেশিত নির্ভুলতা-নির্ভর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর কথা জানিয়েছিল। 

ChannelNRB Footer